ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণকারী মো. আব্দুল করিম নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। কামাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা সদরের পূর্ব বাজারে ত্রিমুখী মোড়ে এক নির্বাচনী পথসভায় হুমকিসহ মানহানিকর বক্তব্য দেন। এমনকি তিনি তার পুরো বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ করেন (ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে)। বিষয়টি নিয়ে সাথে সাথে করিমের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে করিম পূর্ব বাজারস্থ তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কামালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন। তবে কামাল জানিয়েছেন, তিনি (কামাল) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন- করিম এমনটি অপপ্রচার করায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
মো. আব্দুল করিমের বাড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লংকাপাথারিয়া ও অ্যাড. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হলিদাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। দুজনেই সদর ইউনিয়ন থেকে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কামাল বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা শেষে পূর্ব বাজারের ত্রিমুখী মোড়ে পথসভায় মিলিত হন। এ সময় করিমের সমর্থনকারীরা কয়েকটি হ্যান্ডট্রলি দিয়ে মাইক নিয়ে সভাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় কামাল তার বক্তব্যে করিমকে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বলেন, কারাগার করিমের জন্য অপেক্ষা করছে। এছাড়াও করিমকে অন্যান্য প্রার্থীর দালাল, বেঈমান, মুনাফিকের বাচ্চা, পাঞ্জাবী পড়া লেবাসধারী, প্রতারক, হাজী নামের ভন্ড বলেও গালি দেন কামাল। আর এ বক্তব্য কামাল তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লাইভ করেন।
মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘কামাল আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর যে বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে তাতে আমার মানহানির পাশাপাশি আমার নির্বাচনী ইমেজে প্রভাব ফেলেছে। কামালের কর্মী সমর্থকেরা আমার নির্বাচনী পোষ্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলছে। এমনকি আমাকে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে।’
অ্যাড. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল বলেন, ‘করিম ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। সে (করিম) প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, আমি ৮ লাখ টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার এমন অপপ্রচারে আমার কর্মী সমর্থকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছে।’
সদর ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বলেন, ‘এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করা নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘনের সামিল।’