গোলাম সরোয়ার লিটন
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে আওয়ামীলীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের এ লড়াই কেমন হবে এ নিয়ে ওয়ার্ডের নাগরিকরা নানা রকম ভাবনা ভাবছেন। নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী, ভোটার ও ওয়ার্ডের নাগরিকদের মধ্যে নানামুখী তৎপরতা থাকলেও অপতৎপরতা বা রেষারেষি নেই।
তাহিরপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে জেলা পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে তাহিরপুর সদর , বাদাঘাট, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল। মোট ভোট সংখ্যা হচ্ছে ৮১টি। প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ৯ জন সদস্য ও ৩ জন নারী সদস্য এই নির্বাচনের ভোটার। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ২ জন ভাইস চেয়ারম্যানেরও এ নির্বাচনে ভোট রয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খাঁন (তালা), উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জুনাব আলী (টিউবওয়েল), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান আখঞ্জি (ঢোল), সমাজসেবক আতিকুর রহমান আতিক (বৈদ্যুতিক পাখা) ও অ্যাড. মোস্তাফিজ আলী পীর (হাতি)।
১১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
এ নির্বাচনে ভোট নেই ওয়ার্ডের নাগরিকদের। তবুও আলোচনায় থেমে নেই তাঁরা। করছেন নানামুখী নির্বাচনী বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বলছেন নির্বাচনী এ লড়াই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার মধ্যেই হতে পারে। আবার অনেকেই বলছেন নির্বাচনে নতুন কোন চমক দেখা যেতে পারে। তবে বিএনপি’র উপজেলার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাই কারো ব্যক্তিগত প্রার্থীতাকে বিএনপি’র প্রার্থীতা বলার সুযোগ নেই।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদস্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খাঁন থালা প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে নেমেছেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপজেলাবাসীর কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘ ২৪ বছর জনপ্রতিনিধি থাকার সুবাদে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বাড়তি সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এ দলের উপজেলা সভাপতি ও প্রবীণ নেতা হিসাবে গ্রহণযোগ্যতায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে জানান ওই ওয়ার্ডের নাগরিকরা। তাছাড়া ইতিমধ্যেই বিএনপির একাধিক চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের নিয়ে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জুনাব আলী টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই দলের বিভিন্ন স্থরে দায়িত্বপালনের সুবাধে সবার সঙ্গে ঘনিষ্টতা রয়েছে। এ কারণে তিনি ভোটারদের সহানুভুতি আদায় করে নিতে পারেন। তাছাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিএনপি নেতা হওয়ায় তিনি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই।
বৈদ্যুতিক পাখা নিয়ে প্রার্থী তরুণ সমাজসেবক আতিকুর রহমান আতিক এলাকাবাসীর পাশে থেকে সুখে দুঃখে কাজ করছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বিপুল ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছেন। সহজ,সরল ও জনগণের সঙ্গে সহজে মেশার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। এ কারণে ভোটরদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান আখঞ্জি সদস্য পদে ঢোল প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ করছেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালন করেছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যানপদে প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাঁর চাচা মরহুম আব্দুল আজিজ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর বাবা আব্দুল হান্নান তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল হুদা বাদল ও আব্দুস ছোবাহান আখঞ্জি তাঁর নিকটাত্মীয়। এ কারণে ভোটারদের কাছে তাঁর আলাদা ভাবমূর্তি রয়েছে।
হাতি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মুস্তাফিজ আলী পীর। তিনি শের-ই-বাংলা আইন কলেজ, উত্তরা ঢাকার অধ্যক্ষ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র সদস্য এবং ঢাকাস্থ তাহিরপুর সমিতির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচিত কম হলেও শিক্ষিত ও যোগ্যলোক হিসাবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ইতিমধ্যেই ভোটারদের নজর কেড়েছে।
প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নানা ভাবে ভোট চাইছেন। উপজেলার ভোটারহীন নাগরিকরাও তাঁেদর সমর্থনে ভোটারদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, নির্বাচনী তৎপরতা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ার মতো কোন তৎপরতা নেই।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী উপজেলা বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন,‘ দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা তাই দলীয় সিন্ধান্ত মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন,‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ নির্বাচনে বিএনপি যাচ্ছে না। তাই আমাদের দলীয় কোন প্রার্থী নেই।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর বলেন,‘আবুল হোসেন খাঁন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁকে সমর্থন দিয়েছে।’
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন,‘ নির্বাচনী তৎপরতা খুবই শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে।’
তাহিরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ কোন পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায় নি।’