স্টাফ রিপোর্টার
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারয়ণ চন্দ্র চন্দের উপস্থিতিতে জেলা মৎস্যজীবী লীগের দুই কমিটির নেতাকর্মীরা তুমুল বাকবিতণ্ডা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রতিমন্ত্রীর সাথে জেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় এই ঘটনা ঘটে। প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সভায় কোন গ্রুপের ব্যানার টাঙানো হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারয়ণ চন্দ্র চন্দের সাথে জেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক অ্যাড. ইসলাম আলী ও সদস্য সচিব শাহ আলম শেরুল গ্রুপের নেতাকর্মীরা সভায় ব্যানার টানান।
এরপর আরেক গ্রুপের সভাপতি দেবাশীষ দাসগুপ্ত বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবু গ্রুপের নেতাকর্মীরা সভায় তাদের ব্যানারও টানাতে চান। এই নিয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল বাকবিত-ার সৃষ্টি হয়। দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা নিজেদের কমিটিকে বৈধ দাবি করেন।
এসময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের ব্যানার নামানোর অনুরোধ করেন। পরে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা ব্যানার খোলে নেন এবং সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপস্থিত থাকা জেলা প্রশাসকের এক কর্মচারী জানান, এক সংগঠনের দুই গ্রুপের নেতাদের দুই ব্যানার টানানো নিয়ে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় ও দুই গ্রুপই নিজেদের ব্যানার খোলে নেন।
এক কমিটির সদস্যসচিব শাহ আলম শেরুল বলেন,‘ আমাদের কমিটিই বৈধ কমিটি। প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচির চিঠি আমাদের আহবায়কের নামে এসেছে। আমাদের কমিটির যুগ্ম আহবায়ক দেবাশীষ দাসগুপ্ত বাপ্পী ও তৌহিদুল ইসলাম বাবু। আমরাই আগে ব্যানার লাগিয়েছি। বাপ্পী ও বাবু তাদের ব্যানার টানাতে চেয়েছিল। পরে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের অনুরোধে আমরা সবাই ব্যানার খোলেছি। এর বেশী কিছু ঘটেনি, সভা পরিচালনা করা নিয়ে একটা কথা কাটাকাটি হয়েছে।’
অন্য গ্রুপের সভাপতি দেবাশীষ দাসগুপ্ত বাপ্পী বলেন,‘ আমাদের কমিটিই সঠিক; আমি সভাপতি ও বাবু সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুুতি কমিটির কাছ থেকে পেছনের তারিখে ইসলাম আলী ও শাহ আলম শেরুল একটা কমিটি এনেছেন। তারা বিকালে সভা শুরুর অনেক আগেই ব্যানার টানিয়ে রেখেছিল। আমরা নির্দিষ্ট সময়ে সভায় উপস্থিত হয়ে আমাদের ব্যানার টানাতে চেয়েছিলাম। পরে প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে দুই ব্যানারই নামানো হয়েছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদক সভা পরিচালনা করেছেন ও তাদের আহবায়ক সভাপতিত্ব করেছেন। ’