- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও চালু হয়নি

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
হাওর ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পিছিয়ে পড়া জনপদ হিসেবেই পরিচিত তাহিরপুর উপজেলা। বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল গণগ্রন্থাগার। কিন্তু তাহিরপুরে পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক দিনের জন্যও চালু হয়নি। লাইব্রেরীতে সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের পদচারণার পরিবর্তে সভা-সেমিনার, অফিসার্স ক্লাব, পাবলিক মিলনায়তন হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে একতলা বিশিষ্ট এই অবকাঠামোটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। লাইব্রেরীতে প্রথমদিকে কিছু বইপত্র ছিল। তা যে যার মতো করে নিয়ে গেছে। এখন বইয়ের পরিবর্তে আছে টেবিল, টেনিস সহ সৌখিন খেলাধুলার সরঞ্জাম।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে জ্ঞানচর্চার লক্ষ্যে পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৩ সালে এটি চালু করার লক্ষ্যে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, ১ জন সদস্য সচিব ও ৫ জনকে সদস্য করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে তা ব্যর্থ হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এক দিনের জন্যও চালু হয়নি গ্রন্থাগারটি। বর্তমানে গ্রন্থাগারের এই ভবনটি সরকারি বিভিন্ন সভা-সেমিনার, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন মিটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপজেলার বইপ্রেমি সৌরভ বলেন, এই লাইব্রেরী আমরা চালু রাখতে পারিনি। উপজেলা সদরসহ আশেপাশে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে আর কোন গ্রন্থাগার নেই। মোবাইল আশক্তি থেকে বাচঁতে গণগ্রন্থাগারটি চালু করা প্রয়োজন।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সবুল বলেন, একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই। এ গণগ্রন্থাগারটি হাওরবাসীর মনে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু এটি অকার্যকর থাকায় আশা নিরাশা হয়ে গেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, উপজেলা গ্রন্থাগারের বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

  • [১]