- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শীতার্ত মানুষের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিন

হাঁড়কাপানো শীতে কাঁপছে জনপদ। শীতের এতোটাই তা-ব যে, পারতপক্ষে ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। বয়স্ক ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিবেচনায় প্রান্তিক পর্যায়ের লোকজন এই শীতে সবচাইতে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের জীবন ধারণ বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এরা যা রোজগার করেন তা দিয়ে খাবার আর অন্য অপরিহার্য চাহিদা মিটিয়ে শীতবস্ত্র কিনে বিলাসিতা করার মত অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে না। এরা চেয়ে থাকে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার জন্য। সরকার সাধ্যমত শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন বলে আমরা দেখতে পাই। এই কর্মযজ্ঞে সমিল হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত শীতবস্ত্র বিতরণ বিষয়ক খবর থেকে অনুমিত হয়, সকলেই উপজেলা সদরের কাছাকাছি শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। অর্থাৎ সহায়তা প্রদানকারীরা একটু দুর্গম অঞ্চলে যেতে চান না। তাই জনপদের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব শীতবস্ত্র তেমন করে পৌঁছাচ্ছে না। অথচ প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলেই অধিকাংশ দরিদ্র মানুষের বাস। এদেরই সহায়তা দরকার সবচাইতে বেশি। আবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এইসব দরিদ্র ব্যক্তিরা প্রশাসন বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কীভাবে সহায়তা নিতে হয় সেই কায়দা-কানুন জানেন না। প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে তারা এসব সহায়তা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকরি সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বত্র একটি পারদর্শী শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এরা জানে কখন, কোথায় সহায়তা বিতরণ করা হয়। এরা এসবের খোঁজে থাকে। আবার এরা দাতাদের কাছাকছি আসার কৌশলেও পটু। সহায়তা বিতরণের সময় এইসব লোকেরাই সামনে থাকে বেশি। স্বভাবত্ই এইসব ব্যক্তিরাই সবসময় সুবিধা পেয়ে থাকে। এরা পুনঃ পুনঃ সহায়তা পায়। যারা সহায়তা বিতরণ করেন তাদের পক্ষে বুঝার উপায় থাকে না, সহায়তার জন্য কে সবচাইতে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য আর কে ব্যবস্থার সুবিধাভোগী। সুতরাং যারা এই শীতের প্রচ-তার সময়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন তাদের দায়িত্ব হল প্রকৃত দরিদ্র যারা সাধারণত সহায়তা পাওয়ার জায়গা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না তাদের কাছাকাছি যাওয়া।
গতকাল জেলা প্রশাসক শহরতলীর একটি গ্রামে রাতে স্বয়ং উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। অনুষ্ঠানসর্বস্ব সহায়তা বিতরণের চাইতে এমন নিরব সহায়তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বেশি। জেলা প্রশাসকের এই দৃষ্টান্তকে সবাই অনুসরণ করতে পারেন। প্রকৃত মানব-দরদীদের প্রচারের পাদপ্রদীপের বাইরে দুর্গত মানুষের কাছে যেতে হবে। গ্রাম বা এলাকা নির্দিষ্ট করে তারা নিজেরা অকুস্থলে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করলে এর উপযোগিতা পূর্ণতা পাবে। আর কেবল ফটোসেশনের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ আয়োজন করলে এর মধ্যে কোন মানবিক উদারতার সন্ধান পাওয়া যাবে না। এর ভিতর কেবল একধরনের প্রচার-বিলাসিতার গন্ধ পাওয়া যায় যা দারিদ্রতার সাথে পরিহাসের নামান্তর। আমরা প্রকৃত অর্থে জনসেবার আদর্শের উপস্থিতি দেখতে চাই সর্বত্র।
সহায়তার বিষয়টিকে মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে হবে। প্রত্যেক সামর্থবান তার আশপাশের শীতার্ত মানুষের কষ্ট মুচনের দায়িত্ব নিলে দেশে একজন শীতার্ত মানুষেরও খোঁজ পাওয়া যাবে না। আমাদের অনেকের ঘরেই এখন জনপ্রতি অনেক শীতবস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনের বাইরেও রয়েছে এমন বস্ত্র। বছরে একবারও ব্যবহার করেন না অথবা এক দুই দিন ব্যবহার করেন এমন শীতবস্ত্র ব্যবহারকারী প্রচুর রয়েছে আমাদের সমাজে। এইসব প্রয়োজনাতিরিক্ত অথবা ব্যবহারের অনুপযুক্ত বস্ত্রাদিই হতে পারে বহু শীতে কাতর মানুষের জন্য অনেক কিছু। এই উদারতার জন্য তেমন করে কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। দরকার কেবল একটু মানবিকতা আর অন্যের প্রতি সহমর্মিতা বোধ। শুধু শীত-কাতরতায় কেন, মানুষের সকল দুর্যোগেই এই সহমর্মিতার জাগরণ ঘটানো আবশ্যক। আমরা এমন মানবিকতার জাগৃতি কামনা করি।

  • [১]