- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রথম সূর্যোদয়ের কীছু আগের আব্দুল মালেক

কুমার সৌরভ
বছরের শেষ সূর্যাস্তের রক্তিম আভা আজও খেলা করে যাবে
চন্দ্রসোনার থাল এরালিয়াকোণা চাপতির হাওরের জলে,
যেখানে থোকা থোকা ধানগাছের নীচে
পৌরুষদীপ্ত কৃষকের ঘাম ঝরার কথা ছিল
সেখানে এই বিষন্ন বিকেলে টপ টপ করে
ঝরছে ফসলহারা কৃষকের অশ্রু।
একজন আব্দুল মালেক প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বাইরে যেয়ে
অপ্রাপ্তির বঞ্চনাবোধ থেকে কোনো এক মাহেন্দ্রমুহূর্তে জন্ম নেয়া
অগ্নিগর্ভ প্রতিবাদের অলঙ্কার গায়ে চাপিয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন
তখন পানিপতি জনৈকের উঁচুমাথাও লজ্জায় হেট্ হয়।
কী আশ্চর্য, আব্দুল মালেককে ঘিরে ধরে তখন
কতিপয় মাংসাশী জন্তুর মতো দু’পেয়ে জীব
তারা যেন কতকালের ক্ষুধার্তÑ
হাওর খেয়ে এখন মালেকের জীর্ণ শরীরটাকেও ছিঁড়ে খেতে চায়।
হাওরের উদোম আকাশে মালেকের মাথা যেন বিশাল তালগাছ
ওখানে সূর্যের শেষ রশ্মি এসে চুমো দেয়
হাওরের সমস্ত জল রক্তবর্ণ শোণিতধারা হয়ে চিৎকার করে তখনÑ
নেমে এসো আব্দুল মালেক, তোমাকে ভিজিয়ে দেই…
এই ধান-খাওয়া জলে ভিজে সঞ্চয় করো ক্রোধের পাঠ।

ধান ডুবার আগেই তৈরি হয়ে গেছে এক অদ্ভুত সিঁড়ি
সিঁড়িতে ব্যবহার হয়নি কোন সিমেন্ট বালি পাথর
এ সিঁড়ির প্রতিটি ইঞ্চি তৈরি হয়েছে কড়কড়ে নোটের নিবিড়তা দিয়ে
যে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেছেন হাতে গুণা কীছু ‘জনপ্রিয়’ মহোদয়
তারা আর পা ছুঁয়াবেন না হাওরভাঙা জলে
তাঁরা বরং সিঁড়িতে একটি একটি করে ধাপ যুক্ত করতে করতে
আরও বড় রাজ্যে পৌঁছে যাবেন।

আব্দুল মালেকরা তখনও গলা ফাটাবে, অন্য কারও বিরুদ্ধে
অন্যকোনো হাওর বা জঙ্গলে।

  • [১]