- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৪ টি বৃহৎ সেতু- ছয় বছরেও দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয় নি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৪ টি বৃহৎ সেতু’র নির্মাণ প্রকল্প ৬ বছরেও দরপত্র প্রক্রিয়ায় যায়নি। অবশ্য. গত ১৬ জুন ৩ টি সেতু’র নির্মাণ প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন লাভ করেছে এবং গত সপ্তাহে এগুলো পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এগুলো হচ্ছে শাল্লার মার্কুলি বাজারে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু, লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর উপর সেতু ও জামালগঞ্জ- সেলিমগঞ্জ সড়কে সেলিমগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু। অপর গুরত্বপূর্ণ সেতুটি হচ্ছে জামালগঞ্জের সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু। এই সেতুটি’র ডিজাইনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার সঙ্গে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ-বানিয়াচঙের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন এবং শাল্লা থেকে হবিগঞ্জ-ঢাকার দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে মার্কুলি বাজারে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি ভাটি অঞ্চলের দুই উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের বহুদিনের। ২০১০ সালে তাহিরপুরের জনসভায় দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট পার্লামেন্টালিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রায় সাড়ে ৪’শ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট প্রদান করে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের শুল্কস্টেশন বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলীর সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের যোগাযোগ স্থাপন এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হাওর অঞ্চলকে পর্যটনের আওতায় আনার জন্য লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবিও বহুদিনের। সুনামগঞ্জ- জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়কের সেলিমগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বঞ্চনার অবসান ঘটানোর দাবিও স্থানীয় মানুষের অনেক দিনের। একইভাবে সুনামগঞ্জের নদীবন্দর হিসাবে খ্যাত জামালগঞ্জের সাচনাবাজারকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ভাটি এলাকার একটি বৃহৎ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জামালগঞ্জবাসীর অনেক দিনের।1„Z
তাহিরপুরের জনসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৩ টি স্থানেও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রায় ৫ বছর পর গত বছর ডিসেম্বর মাসে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞদল সম্ভাব্যতা যাচাই করে এই ৪ সেতু নির্মাণেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করে। মন্ত্রণালয়ে ৪ টি সেতু নির্মাণের বিষয়টি-ই অনুমোদিত হয়েছে। তবে ডিজাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় সাচনাবাজার সেতুটি’র প্রকল্প প্রস্তাবনা (রোববার পর্যন্ত) পরিকল্পনা কমিশনে যায়নি।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘এই ৪ টি সেতুই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত, ৪ থেকে ৫’শ মিটার দৈঘ্যের সেতু ৩ টি এবং লাউড়ের গড়ের সেতু’র দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার, এই সেতুগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং পরে মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন’।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডি’র গুরত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল্লাহ্ হাফেজ বলেন,‘মার্কুলি, যাদুকাটা ও সেলিমগঞ্জ সেতু গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভ করেছে, এই প্রকল্পগুলো এখন পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সাচনাবাজার সেতুটি’র ডিজাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো যায়নি’। তিনি জানান, পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হলে এই প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় পাঠানো হবে। ওখানে অনুমোদিত হলে দরপত্র প্রক্রিয়ায় যাবে।

  • [১]