সু.খবর ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে প্রতিরক্ষাসহ ২০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র স্বাক্ষরিত হবে। প্রতিরক্ষা সমঝোতা হবে পাঁচ বছরমেয়াদি। তবে এ সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।
এদিকে, শেখ হাসিনার সফরের শেষ দিন তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। গত বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ে সুরেশ প্রভু বলেন, ‘বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি, আমরা এখনও কাজ করছি। ১০ এপ্রিল ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আয়োজনে তাকে (শেখ হাসিনা) নাগরিক সংবর্ধনা দিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে জানাতেই বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব প্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, এ সফরে দু’দেশের মধ্যে বেসরকারি খাত ছাড়া ২০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এর মধ্যে সুসংহত প্রতিরক্ষা সমঝোতা ও ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র স্বাক্ষরিত হবে। এই সমঝোতা ২৫ বছর নয়, পাঁচ বছর মেয়াদি হবে।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বর্তমানে তিন বাহিনীর যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে, তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এ প্রতিরক্ষা সমঝোতা হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতীয় বাহিনীকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ট্রানজিট দেওয়ার কোনো প্রস্তাব এতে নেই। এ ধরনের খবর সর্বৈব মিথ্যা।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে সম্মতি দেননি। কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ ও নদী উপত্যকা পরিচালনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়েও মমতার সম্মতি প্রয়োজন। তবে আলোচনা চলতেই পারে। এ সফরে উপআঞ্চলিক নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালও থাকবে আলোচনায়।
শেখ হাসিনার এ সফরে পানিবণ্টন চুক্তি না হলেও দু’দেশের সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে না এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় উত্তরণ ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যুগ্ম সচিব প্রিয়া রঙ্গনাথন জানান, দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রী মমতাও উপস্থিত থাকবেন। তবে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে থাকবেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বা শেখ হাসিনার আলোচনা হবে কি-না, তা তিনি জানেন না। দু’দেশের মধ্যে দুটি ট্রেন ও একটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে মমতাকে আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। আর ৯ এপ্রিল শেখ হাসিনার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে মমতাকে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।
প্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, বাংলাদেশের পরিকাঠামোর উন্নয়নে রেললাইন, সড়ক পরিবহনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য ভারত তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট দেবে। এক্ষেত্রেও আগের দুটি ঋণের মতোই শর্ত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থের পরিমাণ বলা না হলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। অন্যান্য চুক্তির মধ্যে রয়েছে— অসামরিক পরমাণু সহযোগিতার সমঝোতা, মহাকাশ গবেষণা ও সহযোগিতা সমঝোতা, সুসংহত চেকপোস্ট নির্মাণ, নতুন সীমান্তহাট চালু, তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ ও সমুদ্র উপকূল বরাবর যাত্রী পরিবহন চুক্তি।
এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব বলেন, বাংলাদেশকে বলা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে অশুল্কজনিত বাধার কারণে তারা ভারতে রফতানি করতে পারছে না তা জানাতে। পাটের ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত কাউন্টার ভেইলিং শুল্ক রয়েছে সেটি সব সংস্থার জন্য প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিশেষ কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে।
যুগ্ম সচিব বলেন, এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য বিষয়ে যে চুক্তি হবে তাতে এ খাতে সুবিধা বাড়বে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যে কোনো প্রস্তাব দিলে খোলামনে বিবেচনা করা হবে।