জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী’র খুনের মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। শুক্রবার বিকালে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এই তথ্য জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে জগন্নাথপুরের ওষুধ ব্যবসায়ী জিতেশ চন্দ্র গোপকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ছুরুক মিয়ার তিন সন্তানের জননী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎ¯œা (৩৫) তার সন্তানদের নিয়ে জগন্নাথপুর পৌর শহরের পৌরসভার পেছনের আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন হয় বসবাস করছেন। জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের যাদব গোপের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন হয় জগন্নাথপুর পৌর শহরের সি-এ মার্কেট এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করে শহরে ওষুধের ব্যবসা করেন। জিতেশ চন্দ্র গোপ’এর অভি মেডিকেল হল থেকে জ্যোৎ¯œা প্রায়ই ওষুধ ক্রয় করেন।
বুধবার বিকেলে শাহনাজ ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরশহরের অভি ফার্মেসি থেকে পুলিশ ওই নিখোঁজ নারীর ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর নিহতের ভাই হেলাল মিয়া বৃহস্পতিবার রাতেই জগন্নাথপুর থানায় ফার্মেসি মালিক জিতেশ গোপকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি দিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এসময় তিনি তার বোন বিকাশ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদায়ন করে ফার্মের্সিতে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনার পর পুলিশের ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দুটি দল তদন্তে নামে। তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, জগন্নাথপুর পৌরসভার কার্যালয়ের পেছনের বাসায় সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী’র বাসভবনে এর আগেও গিয়েছেন জিতেশ। ওই বাসভবনের একেবারে কাছাকাছি মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটে জিতেশ চন্দ্র গোপের মালিকানাধীন অভি মেডিকেলে ওষুধ আনার জন্য শাহনাজের যাতায়াত ছিল।
বুধবার বিকেলে অন্যদিনের মতো ফার্মেসিতে যাবার কথা বলে বাসা থেকে বের হন শাহনাজ। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নিহতের ভাই হেলাল মিয়া তাঁর বোন বাসায় ফেরেন নি জানতে পেরে ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫ টায়। তখন ওই ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে ফোন দিলে তিনি হেলাল মিয়াকে জানান, তার বোন এসেছিলেন, ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নিহত নারী) সিলেট ওসমানীতে আছেন। সেখানে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান পান নি পরিবারের লোকজন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান তারা। সন্ধ্যা ৭ টার পর থেকে শাহনাজের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সারা রাত বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে নিহত শাহনাজের খোঁজ না পেয়ে জিতেশ গোপের বাসায় যায় পুলিশ। ওখানে গিয়ে জানতে পারে বৃহস্পতিবার ভোরেই পরিবারের সকলকে নিয়ে অন্যত্র গেছেন জিতেশ। পরে বেলা ১১ টায় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশ অভি ফার্মেসির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। এসময় ফার্মেসির একটি টেবিলের নীচে (রোগী দেখার টেবিলের নীচে) বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর ছয় টুকরা (গলা, পেট, হাত-পা) বিছিন্ন অংশ দেখতে পায় পুলিশ।
নৃশংশ এই হত্যাকা-ের ঘটনায় পুরো শহরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশের দুটি দল রাতেই তদন্তে নামে।
শুক্রবার সকালে পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার মোটিভ উদ্ধারের জন্য ময়নাতদন্তে গর্ভপাতের কোন ওষুধ খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে কি-না, ধর্ষণের কোন আলামত আছে কি-না, চেতনা নাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কি-না জানতে চাওয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন বললেন, শহরের ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকা-ে বাকরূদ্ধ আমরা। সকল ব্যবসায়ী অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, জিতেশ গোপকে রাজধানী ঢাকা থেকে সিআইডি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।