বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে করোনাকালীন সামাজিক দূরত্ব। করোনা ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাট-বাজারে জড়ো হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কোনরকম বাধা-নিষেধ ছাড়াই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বিচরণ করছে তারা। এ উপজেলায় এক এক করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসন অনেকটা নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে। তাদের পক্ষ থেকে জুড়ালো কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মানুষেরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত শনিবার এ উপজেলায় সন্দেহবশতঃ ১৯ জনের নমুনা পাঠিয়ে ৫ জনই করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক সাথে ৫ জন করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে আরও ৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়। সব মিলে এ উপজেলায় ১৩ জনের দেহে করোনা নিশ্চিত করেছে কভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষাগার। তার মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি ৮ জন আইসোলেশনে আছেন। এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চললেও হাত-পা গুটিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে উপজেলা প্রশাসন।
সাচনাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন প্রবণতা নেই। একেবারে গা ঘেঁষে বাধাহীনভাবে বাজারে চলাচল করছে মানুষ। অধিকাংশের মুখে লাগানো নেই করোনা সুরক্ষিত মাস্ক। সর্বত্রই লঙ্ঘন হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম-নীতি। এতে কোন ধরনের বিধি-নিষেধ আছে বলে মনে হয় না।
নিজেকে নিরাপদ রাখতে মাস্ক ব্যবহার করছেন না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে- অনেকেই এতে অনীহা প্রকাশ করে বলতে চাইছেন, ‘মাস্ক-টাস্ক লাগে না, করোনা ধরলে ধরব।’ করোনার বিপর্যয়কালীন মুহূর্তে মানুষের এই বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। এতে জামালগঞ্জে চরম বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ডা. বিষ্ণুপদ সূত্রধর জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনেছি। এতে মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত ঠিক তবে সচেতন নয়। কোন ধরনের নিয়ম-নীতি মেনে চলছে না তারা। এ জন্য প্রশাসনিক কোন তৎপরতাও চোখে পড়ছে না। যদি প্রশাসন এখনই কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আক্রান্তের দিক থেকে জামালগঞ্জের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘করোনা সুরক্ষায় প্রথমত আমাদের নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে। তবে হাট-বাজারে চলাচলরত মানুষের মধ্যে এর প্রচন্ড ঘাটতি আছে। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান শিথিলতা পরিহার করে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে জোড়ালো ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরী।’
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু বলেন, ‘আমাদের এলাকার মানুষ একেবারে অচেতন। তাদেরকে বলেও সচেতন করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছে। করোনা মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে আমার কথা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে হয়তো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।’
জামালগঞ্জ সরকারি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ রফিকুল বিন বারী বলেন, ‘আসলে মানুষের মধ্যে কোন সচেতনতা নেই। এখানে শতকরা ৫ ভাগ মানুষও মার্কস পড়ে না। এখন মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন কঠোরতা নেই। যার কারণে লোকজন করোনার ব্যাপারে মাথা ঘামাতে চাইছে না। প্রশাসন কঠোর না হলে মানুষ সচেতন হবে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। আর এতে ব্যক্তিগত সচেতনতাই বড় কথা। যদি মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে তবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগ আছে। সেটা পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অতি শিঘ্রই তা গ্রহণ করা হবে।’