মাহবুবুল হাছান শাহীন ও চৌধুরী আহমদ মুজতবা রাজী
এডভোকেট রবিউল লেইস রোকেশ ও এডভোকেট খলিল রহমানের লিখিত এবং ৩০ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার দৈনিক সুনামগঞ্জ খবরে প্রকাশিত সোনালী অতীত: সুনামগঞ্জের সমৃদ্ধ ক্রীড়াঙ্গন পড়ে বিমোহিত হলাম। একেবারে স্বল্প পরিসরে এবং গোছানোভাবে সুনামগঞ্জ এর ক্রীড়াঙ্গনের ৭০-৮০ বছরের ইতিহাস উঠে এসেছে।
দ্বিমত নয় হয়তো তথ্য না জানার কারণে লেখার সঙ্গে লেখকদ্বয়ের আরো কিছু সংযুক্তি আশা করেছিলাম। ১৯৯৫ সালে সুনামগঞ্জের ক্রিকেটে পুনঃজাগরণ ঘটে দেওয়ান ইমদাদ রাজা চৌধুরীর অর্থায়নে জলিসুর রহিম নামের ক্রিকেট কোচের আগমনে। তখন থেকেই সুনামগঞ্জে বেসিক ক্রিকেট এর চর্চা শুরু হয়, শুরু হয় আম্পায়ার কোর্স। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে আম্পায়ার্স প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে ৯ জন আম্পায়ার কৃতিত্বের সাথে সি গ্রেডে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট র্বোড আয়োজিত আম্পায়ার্স প্রশিক্ষণ কোর্সে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে বর্তমানে সুনামগঞ্জ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশনে মোট ৩৪ জন কোয়ালিফাইড আম্পায়ার রয়েছেন।
আম্পায়ারিং এর ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনের শুরু তখন থেকেই। তরুণ, শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় আম্পায়ারদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে সুনামগঞ্জ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশন। বোলিং এর সময় অবৈধ এ্যাকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে পরিবর্তন ঘটে বোলিং এ্যাকশনের। ক্রিকেট আইন সম্পর্কে স্বচ্ছতা আসায় সব কিছু ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যায়।
খেলা শেষে আম্পায়ারদের পারফরমেন্স মূল্যায়ন, ভুল নিয়ে আলোচনা, আইন সংশোধন ইত্যাদি নিয়ে প্রতি ক্রিকেট মৌসুমেই সরগরম থাকে আম্পায়ার এসোসিয়েশনের কার্যালয়। জবাবদিহিতা থাকার কারণে দায়িত্বে স্বচ্ছতা থাকে পুরোপুরি। আমরা যারা ৯০ এর দশকে ক্রিকেট ও আম্পায়ারিং এর সাথে জড়িত ছিলাম তারা গর্ব করে বলতাম আম্পায়ারিং এ যারা জড়িত তারা সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে গেছে এবং বর্তমানে সুনামের সাথে কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অবস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন যা সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। আম্পায়ারিং এ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে প্রত্যেকেই সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পেশাগত কারণে যারা তাদের অবস্থান থেকে সুনামগেঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা হলেন- দেওয়ান গনিউল সালাদিন, সমাজকর্মী ও সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমী, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও চিকিৎসা কর্মকর্তা, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ, এডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন সুমন, এডভোকেট এনাম আহমদ, চৌধুরী মো. আবু জাবেদ নিপু, ব্যবসায়ী, চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ সানি, সিনিয়র সহকারী সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মো. ফাখরুছ ছালাম সোহেল, সহকারী অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জ্যোতির্ময় দাস পাপলূ, এভিপি, এবি ব্যাংক, এডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন, এডভোকেট মাহমুদুল হুসাইন শিরীন, মো. ওয়াসিম বখত, ব্যবসায়ী এডভোকেট চৌধুরী মো. আবু সাহেদ বাবলু, ডা. জহরলাল দাস শিপলু, আরএমও, সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ, হোসেন আহমদ রাসেল, প্যানেল মেয়র, সুনামগঞ্জ পৌরসভা, গোলাম সাবেরীন সাবু, কাউন্সিলর সুনামগঞ্জ পৌরসভা, জি.এম তাশহিজ ডিরেক্টর, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, অনীশ তালুকদার বাপ্পু, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মতিউর রহমান কলেজ, চৌধুরী আহমদ মোহাইমেন অনি, এসিঃ ম্যানেজার, লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, মো. আতাউর রহমান তালুকদার, সহকারী শিক্ষক, মাহসাদুল হাসান চৌধুরী পাভেল, সহকারী কোচ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, আলী হোসেন, সচিব, পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ. আরিফ চৌধুরী, স্পোর্টস রিপোর্টার, চ্যানেল আই, নাজমুল ইসলাম পলাশ, ব্যবসায়ী শাহ আবু জাফর তানভীর, ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান পীর, ব্যবসায়ী সহ আরো অনেকে। বর্তমান কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. দবিরউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন চৌধুরী আহমদ মুজতরা রাজী।
খেলাধুলার সাথে জড়িত থেকে শিক্ষার পরিপুর্ণ বিকাশ ৯০ দশকেই সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে সম্ভব হয়েছে যা সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ প্রজন্ম বেড়ে উঠুক ক্রীড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষায়। অভিভাবকরা সচেতন হলে শিক্ষা ও খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকবে সবসময়।
ক্রীড়াঙ্গনের এ প্রজন্ম সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তাদের এ অগ্রযাত্রা আগামী প্রজন্মকে আকৃষ্ট করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
(লেখক : মাহবুবুল হাছান শাহীন আইনজীবী ও সদস্য, সুনামগঞ্জ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশন এবং চৌধুরী আহমদ মুজতরা রাজী, সাধারণ সম্পাদক, সুনামগঞ্জ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশন)