- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রসঙ্গ: স্বাস্থ্যবিধি- নিরাপদে ঘরের বাইরে বেরোনোর ব্যবস্থা করে দিন

প্রতিদিন বাড়ছে করোনাক্রান্তের সংখ্যা। সুনামগঞ্জ ও সারা দেশে। সুনামগঞ্জে শনাক্তকৃত কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৩ শ’ ছুঁতে চলেছে। মারা গেছেন তিন জন। পরিসংখ্যানের এই হিসাব কেবল সংখ্যার খেলা নয়। বরং এক একটি সংখ্যা বাড়া মানে জীবিতদের হৃদস্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। করোনা আক্রান্তদের বেশি অংশই ভাল হয়ে যায় শরীরবৃত্তীয় প্রতিরোধ সক্ষমতার কারণে। কিন্তু অল্প যে পরিমাণ ব্যক্তির রোগ জটিলাকার ধারণ করে তাদের প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা বাঁচিয়ে তুলতে পারে না। মৃত্যুই তাদের একমাত্র পরিণতি। এই চিকিৎসার অযোগ্য রোগটি তাই সবচাইতে আতংকজনক। আমাদের দেশ এখন করোনা সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে খেই হারিয়ে ফেলেছে। নিজের সুরক্ষা নিজের বলে প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতাগুলোকে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক করা হয়েছে। ফলে ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রতিকারের একমাত্র উপায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা। হাত ধুয়া, মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব, এই তিনটিই কেবল ব্যক্তির সুরক্ষা কবচ। সচেতন যারা, স্বভাবে বেপরোয়া কিংবা পাগল নন যারা, তারা এই স্বাস্থ্যবিধানগুলো মানার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রতিরোধপর্ব তো একক করণীয় নয়। সামষ্টিক করণীয়। আমি হয়তো মানছি, নিয়ম মেনেই ঘর থেকে বের হচ্ছি। কিন্তুরা অন্যরা সেটা করছেন না। সেই না করা লোকদের সাথে আমার ক্ষণে ক্ষণে দেখা হচ্ছে। তারা নিরাপদ দূরত্ব না মেনে আমাকেও ছুঁয়ে দিচ্ছেন। শ্বাস ফেলছেন আমার ঘাড়ে, মুখে। আমি রক্ষা পাই কী করে বলুন ? যতক্ষণ সকলে নিয়মগুলো না মানছেন ততক্ষণ ব্যক্তির একক প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। তাই নিয়ম মেনেও আমি আজ অসহায়।
বাসা থেকে বের হলেই দেখা যায় কারও মুখে মাস্ক নেই। ঠেলাঠেলি, গাদাগাদি, ভিড়; সাধারণ দৃশ্য। রিকশায় উঠলেন, রিকশাচালকের মুখে মাস্ক নেই, সে রাস্তায় থু থু ফেলছে। বয়স্ক কোনো চালক কাশি দিচ্ছে। দোকানে গেলেন। দোকানীর মুখও মাস্কবিহীন। অতিচালাকের হাসি তার মুখে। রাগে আপনার পিত্তি জ্বললেও সে ভাবলেশহীন। রাস্তায় কোনো রকমে নিজেকে বাঁচিয়ে হাঁটছেন। সামনে পিছনে ডানে বায়ে মুখোশহীনদের জয়জয়কার। কেউ নিজেকে আড়াল করতে চাইছে না। সকলেই অম্লান বীরত্ব প্রদর্শনে ব্যতিব্যস্ত। সচেতন আপনি হয়তো কাউকে নিয়মগুলো মনে করিয়ে দিতে চাইলেন। বললেন- “ভাই একটু দূরত্ব বজায় রাখুন” অথবা বললেন, “বাবা সরকার তো মাস্ক না পরলে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাবাস সাজার বিধান করেছে, দয়া করে ওটি মুখে দিন, নিজে বাঁচুন অন্যকেও বাঁচতে দিন”। আপনার কথা শেষ হবে না, দেখবেন পালটা জবাব পেয়ে গেছেন- “আরে মিয়া মরতে হলে মাস্ক পরেও মরব না পরেও মরব”। আরও শুনবেন, “শাস্তির কথা বলছেন? ও আমরা জানি। পকেটে মাস্ক একখান আছে। উনারা আসার সংকেত পেলেই পরে নিব, চিন্তা করবেন না”। সেই মুহূর্তে আপনার নিজেকে দুনিয়ার সবচাইতে বড় আহাম্মক মনে হবে। লজ্জায় উপদেশ খয়রাতের ইচ্ছা ত্যাগ করবেন চিরতরে। মনে মনে ভাববেন, এই বোকা ও বেপরোয়া জাতিকে বাঁচায় কে।
কিন্তু বাঁচতে হবে সবাইকে। যে বেপরোয়া ব্যক্তিটি কোনো নিয়মই মানছে না বাঁচতে চায় সেও। প্রশ্ন হলো কে বাঁচাবে এদের? এর একটি উত্তর- যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সাজার বিধান করেছে সেই ব্যবস্থাই এটি করবে। হ্যাঁ, একদম খাঁটি কথা। রাষ্ট্রকে নির্বিকার ও ঢিলেমি করলে চলবে না। বিধিসম্মত সাজা কার্যকর করতে হবে। আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে এর সুপ্রয়োগের উপর। প্রয়োগহীন আইন নির্বিষ সাপের মতো শক্তিহীন, কাগজে আঁকা বাঘের মতো নির্জীব, শিশুর খেলনা বিমানের মতো গন্তব্যে উড়ার সক্ষমতাশূন্য। আইনের প্রয়োগ ঘটলেই কেবল আইন না মানা মানুষগুলো ভয় পাবে এবং নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হবে। হে রাষ্ট্রশক্তি, দয়া করে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করুন।
চিকিৎসা দিতে না পারেন, নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য দিতে না পারেন, অন্তত ঘরের বাইরে বেরোনোর পরিবেশ তো করে দিন।

  • [১]