সজীব দে
পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন দিন কাটালেন সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল থেকে কলেজের মাঠে জড়ো হতে থাকেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। পরস্পরের প্রতি নানা প্রশ্ন, কথা আর আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্মৃতির কলেজ ক্যাম্পাস। পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবনে সবাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে গেছেন। অনেকেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে ছিল না যোগাযোগ। সেই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতেই দুই হাতে বুকে জড়িয়ে নেন সহপাঠীরা। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে আবার অনেকে পরিবার পরিজনদের নিবন্ধন করিয়েছেন। সবার চোখ মুখ জুড়ে ছিল হাসি-আনন্দ-উচ্ছাস, যেন প্রাণের স্পন্দন মিলেছে ওখানে। শহরে থাকা সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সকল পথ মিলেছিল প্রকৃতির দৃষ্টিনন্দন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসেই।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের প্রথম দিনের আনন্দ আয়োজন শুরু হয়েছিল জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার বেলা ১১ টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রশীদ। এরপর বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি ফিরে আসে কলেজ প্রাঙ্গণে। কলেজের মুক্তি চত্বরে সকলে চার কলেজের ছাত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব, গিয়াস উদ্দিন, জগৎজ্যোতি দাস এবং আলী আজগর’র স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। পরে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।
‘আমাদের আবেগ বিধৌত স্বপ্নময় অতীতের সুন্দর দিনগুলোর নিরন্তর ধারক’ শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- সুনামগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক অ্যাড. হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শহীদুজ্জামান চৌধুরী ও সিলেট ছাত্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ডা. শামীমা আক্তার।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ, সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, দীলিপ মজুমদার, ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস, ধূর্যটি কুমার বসু, বিগ্রেডিয়ার হুমায়ুন বখত মুহিত, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ইস্তিয়াক আহমেদ, জেলা ও দায়রা জজ চমন চৌধুরী, একেএম আজিজ, কলেজের সাবেক ভিপি শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল।
সভা পরিচালনা করেছেন সুখেন্দু সেন, অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিন ও শামস শামীম।
সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম ও গীতা পাঠ করেন অ্যাডভোকেট পরিতোষ কান্তি দে। প্রাক্তনদের ফুল দিয়ে বরণ করেন কলেজের রোবার স্কাউট ও বিএনসিসি’র সদস্যরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে মুহাম্মদ আব্দুর রহীমসহ প্রয়াত সকল শিক্ষকদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন ভি.পি-জি.এসদের পরিচয় পর্ব ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় পর ছিল আতসবাজি প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।