অধ্যক্ষ মোঃ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক
আলহামদুলিল্লাহ।
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চলে নাইন্দার হাওরের উত্তর – পশ্চিম পাড়ে ঐতিহ্যবাহী বৃটিশ সড়কের পূর্ব পাশে এলাকাবাসী সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০১১ খ্রীস্টাব্দের ০৭ ডিসেম্বর পরমেশ্বরীপুর গ্রামের পূর্বাংশে বিদ্যমান একটি ক্লাবঘরে সোনার বাংলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (পাবলিক হাইস্কুল) কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ২০০১ খ্রীস্টাব্দে এলাকাবাসী প্রথম হাইস্কুল স্থাপনে উদ্যোগী হয়ে সভা করেছিলেন। কিন্তু কোন গ্রামে স্থাপন করা হবে সে বিতর্কের জন্যে প্রথম প্রয়াসটাই আলোর মুখ দেখে নাই।
দ্বিতীয় প্রয়াস হিসাবে ২০১০ খ্রীস্টাব্দে পরমেশ্বরীপুরের হাজী গয়েছ আলী সাহেবের বাড়ির সামনে চাটাই বিছিয়ে এলাকাবাসী আর একটি সভায় মিলিত হন। উক্ত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় অবস্থিত তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পরবর্তী বছরে সরকারি ভাবে কোনটাই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা না হলে ২০১২ খ্রীস্টাব্দ থেকে হাইস্কুল স্থাপন ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ০৭ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে এলাকাবাসী এক সভায় মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ২০১২ একাডেমিক সন থেকে শুভযাত্রা শুরু হয় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয়ের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত পরমেশ্বরীপুর ক্লাবের সেমিপাকা গৃহে। সকল বিতর্ক এড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমে নামকরণ করা হয় সোনার বাংলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এরই মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনুমতি ও স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে। পরবর্তীতে সোনার বাংলা পাবলিক হাইস্কুল নামকরণ করে নবম ও দশম শ্রেণির অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে যা বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয়টির জন্য এর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি দান করেছেন। আরও একজন দাতা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আবশ্যকীয় জমি দানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠাতা সহ মোট নয় জন দাতা সাধ্যমত অর্থ দান করেছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয় এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক ও দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ততকালীন চেয়ারম্যান জনাব হাজী আব্দুল খালেক আর্থিক বরাদ্দ ও ঢেউটিন দান করেন। প্রাপ্ত দান ও বরাদ্দ দ্বারা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ভূমিতে ১০৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট (৭ ফুট টানা বারান্দা সহ) ভবন নির্মাণ করা হয়। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্যে পৃথক ওয়াশ রুম নির্মাণ করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সহযোগিতায় আরও ১০ লাখ টাকায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট (৭ ফুট টানা বারান্দা সহ) ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র / ছাত্রীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য উম্মুক্ত মাঠ রয়েছে।
স্কুলটি বর্তমানে প্রধান শিক্ষক সহ ৫ জন পূর্ণকালীন ও ২ জন খন্ডকালীন মোট ৭ জন শিক্ষক – শিক্ষিকা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একজন অফিস সহকারী তাঁদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। ছাত্র / ছাত্রী সংখ্যা প্রায় তিন শত যাদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশী। জে.এস.সি পরীক্ষায় ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ সনে অন্য স্কুলের মাধ্যমে ও ২০১৫ সন থেকে নিজ স্কুলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে গড়ে ৯৯% এবং এস.এস.সি পরীক্ষায় ২০১৫ সন থেকে ২০২১ পর্যন্ত অন্য স্কুলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে গড়ে ৯১% ফলাফল অর্জন করেছে।
সোনার বাংলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি (পাবলিক হাইস্কুল) পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট কর্তৃক অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি ছিল এবং বর্তমানে অনুমোদিত এডহক কমিটি রয়েছে। শুরু থেকে এপর্যন্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যথাশীঘ্র সোনার বাংলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (পাবলিক হাইস্কুল ) এম.পি.ও ভূক্তি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের অনুমতি ও স্বীকৃতি আশু প্রয়োজন। নিকট ভবিষ্যতে এটি পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে পরিণত হবে এবং দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলবাসীর সুশিক্ষা ও নবজাগরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে সর্বসাধারণের প্রত্যাশা।