চট্টগ্রামের জনপ্রিয় রাজনীতিক ও সুদক্ষ মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবান উপলক্ষে বন্দরনগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার অতিরিক্ত জনসমাগম ঘটায় পদপিষ্ট হয়ে ১০ ব্যক্তি মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। নিমন্ত্রণ খেতে এসে এভাবে লাশ হয়ে যাওয়ার মতো বিয়োগান্তক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। জানা যায়, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে বন্দরনগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে এই মেজবানের আয়োজন করা হয়। প্রায় দেড় লাখ মানুষের জন্য এ আয়োজন করা হলেও মেজবানে আগমন ঘটে এর চাইতে অনেক বেশি মানুষের। অন্যদিকে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে অতিরিক্ত জনসমাগমের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ তথা নিরাপত্তা বিধানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদপত্রে। যে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে সেখানেও অনুরূপ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের প্রেক্ষিতে অতিশয় জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা ছিলেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান প্রথা ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা মিলে সর্বত্র ব্যাপক ভিড় জমেছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে পূর্বানুমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিনা কিংবা পূর্বানুমান করলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন কিনা সে নিয়ে জনমনে প্রচুর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন এসব পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণ করলেও ঝরে পড়া প্রাণগুলো আর ফিরে আসবে না।
এরূপ মেজবানে পদদলিত হয়ে মারা পড়ার কথা সাধারণত দরিদ্র শ্রেণির লোকজনের। কিন্তু যারা মারা গিয়েছেন তাদের পরিচয় দেখে মনে হয় এরা সকলেই কথিত দরিদ্র শ্রেণির লোক ছিলেন না। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র ও প্রকৌশলী। আগে প্রতিবছর ঈদমৌসুমে জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে যেয়ে দরিদ্র মানুষের পদদলিত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত। এখন অবশ্য অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। দেশের ও মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় এখন আর কেউ মুফতে কিছু পেতে বা খেতে প্রাণসংশয় করে ভিড়ে ঢুকে পড়েন না। চট্টগ্রামের মেজবানিতে যে দেড় লাখ বা ততোধিক মানুষ অংশ নিয়েছেন তাদের একটি বড় অংশ অস্বচ্ছল থাকতে পারেন কিন্তু শুধু মাত্র এক পেট খাওয়ার জন্যই তারা গেছেন, এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি মনের টান থেকেই তারা গেছেন, এটুকু বলা যায় নির্দ্ধিধায়। এই ভালবাসার উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হয়নি প্রয়াতের পরিবার কিংবা প্রশাসনিক তরফ থেকে। থাকলে এইসব অনাহুত মৃত্যু রোধ করা যেত হয়ত।
অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন বলে একটি জিনিসের অস্তিত্ব আছে আমাদের রাষ্ট্রে। ১৯৮৪ সনের এ আইন অনুসারে ১০০ জনের উপরে অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হলে জনপ্রতি ২৫ টাকা করে রাজস্ব জমা করতে হয় সরকারি কোষাগারে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অতিথি আপ্যায়নের বিষয়টি সরকারকে আগে থেকেই জানাতে হয়। প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার এ আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছিলেন কিনা জনগণকে সেটি জানানো উচিৎ। নতুবা জনপ্রিয় এই রাজনীতিকের পরিবারের প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে। আর যদি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তারা সব আইনের উর্দ্ধে থাকেন তাহলে সেটি তো অবশ্যই দুঃখজনক ব্যাপার হবে।