- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পড়াশুনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত গ্রামের শিশুরা

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নালেরবন্দ গ্রামের নালেরবন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন শিক্ষার্থীদের। সড়ক পথের যোগাযোগ বিহীন এই গ্রামটিতে আর কোনো বিদ্যালয় নাই। গ্রামবাসি বলছেন, গ্রামের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলো দিতে তারা বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নালেরবন্দ গ্রামের এক কিনারে ছোট একটি মাঠ নিয়ে নালেরবন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। আধা পাকা বিদ্যালয়ের ভবনটির উপরের টিন রঙিন। একটি কক্ষে একজন শিক্ষিকা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ জন। বিদ্যালয়ের অন্যান্য কক্ষ বন্ধ রয়েছে।
গ্রামবাসি সূত্রে জানা যায়, ন্যাদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ও এনজিও সংস্থা এফআইভিডিবি মাধ্যমে ২০১০ সনে চালু হয় বিদ্যালয়টি। ২০১৫ সালে ন্যাদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সগযোগিতা বন্ধ হওয়ায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম থেমে যায়। এরপরই পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯ সালে গ্রামবাসি আবারও এক হয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার মতো টাকা তাদের ছিলো না। এমতাবস্থায় একজন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে প্রথম শ্রেণি চালু করেন গ্রামবাসি। বর্তমানে গত বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।
নালেরবন্দ গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল হাসান বলেন, আমাদের গ্রামের সবাই শ্রমজীবী মানুষ। বিদ্যুৎ বিহীন এই গ্রামটি এখনো অর্থনৈতিক ভাবে অন্যান্য গ্রাম থেকে পিছিয়ে রয়েছে। সবার ক্ষমতা নেই শিশুদের ২- ৩ গ্রাম পার হয়ে অন্য গ্রামের বিদ্যালয়ে পাঠানো। সম্ভবও না। যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে চতুর্দিকে পানি থাকে। এখন ছোট ছোট শিশুদের পড়াশুনা শেখাতে নদী, বিল পার হয়ে অন্য গ্রামের বিদ্যালয়ে কিভাবে পাঠাবো?
অভিভাবক মো. কুহিনুর বলেন, যাদের শিশু বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে চাঁদা উত্তোলন করি। উত্তোলনকৃত টাকা থেকে একজন শিক্ষককে সামান্য বেতন দিচ্ছি। অনেক অভিভাবক টাকার অভাবে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন নি।
বিদ্যালয়টির পরিচালক মতিউর রহমান বলেন উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের খলিশাজুরী গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেটিতে যেতে হলে নদী পার হতে হয়। লেদারবন্দ গ্রামেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে যেতে হলে বিল পার হতে হয়। বর্ষাকালে দরিয়ায় ভাসি আমরা। বিদ্যালয়ের সুযোগ না থাকায় আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করানো সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আকুল নিবেদন বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তি বা সরকারিকরণ করে আমাদের সন্তানদের পড়াশুনা করার সুযোগ দেয়ার জন্য।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী বলেন, এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন। আমরা নালেরবন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেনো সরকারিকরণ বা এমপিওভুক্তি করা হয় সে চেষ্টা করছি। উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বলেছি। এখন দেখি কি হয়।

  • [১]