- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফল জানার পর এনামুলের পরিবারে শুধুই কান্না

আকরাম উদ্দিন
এইচএসসি পাস করেছে নিহত এনামুল। গত ১৯ জুলাই জুয়া খেলায় বাধা দিতে গিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এনামুল নিহত হয়েছিলেন দুর্বৃত্তদের নির্মম আক্রমণের শিকার হয়ে। গতকাল এইচএসসির ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় এনামুল ৩.১৭ গ্রেড পয়েন্ট পেয়ে পাস করেছেন। এই সংবাদে এনামুলের পরিবার ও স্বজনরা আনন্দের পরিবর্তে এখন বিলাপ করছেন শুধু।
দরজি দোকানে কারিগরের কাজ করে নিজের এবং তিন ভাইবোনের লেখাপড়া আর সংসারের খরচ চালাতেন এনামুল হক (১৯)। বহু কষ্টে, শ্রমে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর ফল বেরিয়েছে আজ। এনামুল পাস করেছেন, কিন্তু সেই ফল দেখে যেতে পারেননি। ফল জানার পর পরিবারের সদস্যরা শুধুই কেঁদেছেন। এনামুলের বাবা আবদুল মান্নান (৫৫) শ্রমিক। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেদের মধ্যে এনামুল বড়। আরেক মেয়ে তামান্না আক্তার এবার এসএসসি পাস করে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছেন। আরেক ছেলে জুনায়েদ হাসান জনি সপ্তম ও মেয়ে মুন্নী আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।     এনামুলের চাচা আবদুন নূর জানান, এনামুলের ছোট বোন তামান্না আক্তার এবার সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এনামুলই বোনকে কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। যে রাতে এনামুল মারা যান তার পর দিন বোনকে নিয়ে শহরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। এরপর তামান্না আর শহরে যায়নি। আবদুন নূর বলেন, এই ছেলেটারে নিয়াই পরিবারের সব আশা-ভরসা ছিল। ফল জেনে তার মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই কেদেছেন। এতে কষ্ট করে সে লেখাপড়া করল, পরীক্ষা দিল, কিন্তু ফল দেখে যেতে পারল না।
এনামুলের সহপাঠী আল আমিন বলেন, ‘আমি আর সে (এনামুল) পাশাপাশি বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিয়েছি। খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল এনামুল। ফল প্রকাশের পর কলেজে সবাই তার জন্য আফসোস করেছে।’
এনামুলের বাবা আবদুল মান্নান বলেন, ছেলেটা থাকলে কত খুশি অইত। এখন এই পাস দিয়া আমরা কি করব। ছেলেটারে নির্মমভাবে পিটাইয়া মারল। থানায় মামলা করলাম, এক মাস অইল কিন্তু একটা আসামিও ধরা পড়ল না। এই কষ্ট কারে বলব।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেছেন, আসামিরা এলাকা ছাড়া। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

  • [১]