স্টাফ রিপোর্টার
চলতি মওসুমে পাউবো’র বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ফসলহানীর ঘটনায় হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতি নিরূপণে সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সুধীজন। মঙ্গলবার দুপুরে হাওরের ফসল রক্ষায় নদ-নদী-খাল খননে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দের দাবিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পুরাতন হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সুজন, রানার এইড, হাউস, সুরমা ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক নেতাসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনের সাংসদ অ্যাড. শামছুন্নাহার রব্বানী শাহানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ধুর্জটি কুমার বসু, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, নারী নেত্রী শীলা রায়, কৃষক নেতা আব্দুল আউয়াল, প্রকৌশলী হামিদ পাঠান, নির্মল ভট্টাচার্য, সহকারি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সালেহীন চৌধুরী শুভ, জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক এমরানুল হক চৌধুরী, কৃষক নেতা এনামুল হক, ব্যাঙ্কার আশরাফ হোসেন লিটন, জেলা কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেরুল আহমদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৫৪ সনের যুক্তফন্টের নির্বাচনেও হাওরাঞ্চলের পক্ষ থেকে নদ-নদী খননের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই দাবি ৬২ বছরেও পূরণ হয়নি। হাওরের ফসলরক্ষায় অবিলম্বে নদ-নদী খনন করতে হবে। তাছাড়া প্রতি বছর যেসব প্রকৌশলীর ভুল পরিকল্পনায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায় সেই প্রকৌশলীর সার্টিফিকেট বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধে সাংসদদের কোটা বাতিলের দাবিও জানান বক্তারা।
একমাত্র বোরো ফসলরক্ষার নামে বাধ নির্মাণে প্রতি বছর সরকারি টাকা লোপা হয় বলে অভিযোগ করে বলেন,‘প্রকৃতিতে ক্রমশ পরিবর্তন আসলেও পাউবোর কোন পরিবর্তন নেই। তারা প্রতি বছরই ভুল পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দ লোপাট করছে।’