বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলকে ‘ফসল জোন’ বিবেচনা করে আলাদা বাজেট চান এখানকার কৃষক এবং কৃষক সংগঠকেরা। তারা মনে করেন হাওরাঞ্চলকে বিশেষ উন্নয়নের আওতায় নেওয়া হলে এখানে ধান ও মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এজন্য এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চান হাওরবাসী।
জেলা কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রাশেদুল হাসান জানালেন, কেবল ধানের উৎপাদনই সুনামগঞ্জে প্রতি বছর চার হাজার কোটি টাকার উপরে। তিনি জানান, ২০২০ সালে এই জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯০ মে.টন। টাকার অংকে যার মূল্য তিন হাজার চারশ’ নিরানব্বই কোটি টাকা, ওই বছর আমন ধান হয়েছে তিন লাখ ২২ হাজার ৬৫৩ মে.টন। টাকার অংকে যার মূল্য ৮৭১ কোটি টাকা। ২০২১ সালে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ২১১ মে.টন। টাকার অংকে যার মূল্য তিন হাজার ছয়’শ পঞ্চাশ কোটি টাকা। এবছর আমন ধান হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩০২ মে.টন, টাকার অংকে যার মূল্য ৭৮১ কোটি টাকা। বোরো ও আমন ধান হাওরাঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল হলেও মাছের উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেশের অন্যতম অঞ্চল এটি। এছাড়া সবজী, বাদাম, ভুট্টাসহ অন্যান্য কৃষিজ পণ্যও উৎপাদন হয় হাওরাঞ্চলে। হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জেলা সুনামগঞ্জের কৃষক নেতাদের দাবি হাওরাঞ্চলকে ফসল জোন বা মাছ জোন হিসেবে চিহিৃত করে আগামী বাজেটে এই অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি কৃষক নেতাদের।
হাওরের তলানির উপজেলা শাল্লার বড় কৃষক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, পাওয়ার পাম্ম, পাওয়ার টিলার, ধানকাটার মেশিন, ভালো জাতের ধানের বীজসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকিমূল্যে প্রদান করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। একইসঙ্গে মাছের অভয়াশ্রমকে খনন, নদী খননের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। তার মতে মাছের অভয়াশ্রম ও নদী খনন করলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অকাল বন্যা থেকে ফসল রক্ষায়ও নদী ভূমিকা রাখবে।
জামালগঞ্জের প্রবীণ কৃষক ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন, হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য খাল, স্লুইসগেট করতে হবে। এজন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। জলমহাল, ছোট ছোট নদী খননের জন্যও বরাদ্দ প্রয়োজন। তাতে মাছ ও ফসল দু’ইয়েরই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মপাশার বাসিন্দা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন, কৃষি উপকরণ ভর্তুকি মূল্যে দেবার জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে। কৃষি পণ্যের, বিশেষ করে ধানের সরকার নির্ধারিত মূল্য যাতে কৃষক পায়, সেজন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র ও গোদাম করতে হবে। জলমহালকে ইজারা না দিয়ে তীরবর্তী অঞ্চলের জেলে কৃষকদের সমবায় পদ্ধতিতে শাসন করার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। উৎপাদিত মৎস্যের দুইভাগ বিক্রি এবং একভাগ সংরক্ষণ করতে হবে। সবকিছুর জন্যই বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বললেন, কৃষিতে পর্যাপ্ত বাজেট থাকতে হবে। চা-শিল্প, পোশাক শিল্প হতে পারলে কৃষিকে শিল্প বিবেচনা কেন করা হবে না। ম্যাঙ্গো জোন হতে পারলে ‘ফসল জোন’ কেন হবে না। হাওরাঞ্চলকে আলাদা ফসল জোন বিবেচনা করে যোগাযোগসহ প্রয়োজনী উন্নয়ন করতে বাজেটে বরাদ্দ চাই।
কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার বললেন, ‘বাজেটে কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারই হারভেস্টার মেশিন থেকে শুরু করে কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি মূল্যে দিয়েছে। এবার এই খাতে বরাদ্দ থাকবে।’