- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিলো ইজারাদার

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের জামখালা হাওরের বাঁচা ডুবি বিলের ইজারাদার বিল শুকিয়ে মৎস্য নিধনের জন্য কেটে দিয়েছে ফসল রক্ষা বাঁধ। এতে পুরো জামখলা হাওর অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকশত হেক্টর বোর ফসল।
হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর সরকার হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেন। কিন্তু আমাদের হাওরের একটি প্রভাবশালী চক্র হাওরের বিল সাবলিজ এনে নীতিমালা অমান্য করে বিল শুকিয়ে মৎস্য নিধনের জন্য বাঁধ কেটে বিলের পানি শুকাচ্ছেন। আমরা কৃষকরা আতঙ্কে আছি। এদিকে বাঁধ কেটে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউয়িনের জামখালা হাওরের বাঁচাডুবি বিলে গিয়ে দেখা যায়, পানি বিলের তলদেশে চলে গেছে। নীতিমালা অমান্য করে চলছে মৎস্যনিধন।
ধরমপুর সলফ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি সড়ক কেটে পানি বের করা হচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এই খালটি একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে এই বাঁধটিকে ধরমপুর সলফ গ্রামের লোকজন সড়ক হিসেবেই ব্যবহার করছেন।
উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, জামখালা হাওরের বাঁচাডুবি জলমহাল ১৪২৬ বাংলা হতে ১৪৩১ বাংলা সনে ৬ বছর মেয়াদে দরগাপাশা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ ইজারাপ্রাপ্ত হয়। সমিতির নিবন্ধন নং-১৩৯৯। সমিতির সভাপতি দরগাপাশা গ্রামের মো. ছানু মিয়া, সাধারণ স¤পাদক মো. সাহিদ মিয়া। অর্ন্তবর্তীকালীন ৩ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সমসর উল্লা, সদস্য মো. আজির উদ্দিন ও মো. হুরমত উল্লা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধরমপুর, সলফ গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, বিলটি সাবলিজে এনেছেন লাউগাং (উমেদনগর) গ্রামের জানার মিয়া, সাবেক মেম্বার হারুন মিয়া, সলফ গ্রামের ইমরাজুল খান, শাহান মিয়া, কুতুব উদ্দিন। তারা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের সড়ক কেটে দিয়েছে। এখন গ্রামের লোকজন চলাচল করতে পারছেন না। সেই সাথে হাওরের ফসল নিয়ে আমরা আশঙ্কায় আছি।
দরগাপাশা গ্রামের তৌহিদ খুরশিদুজ্জামান চৌধুরী নাজমুল জানান, এই বিলটি আমার চাচাতো ভাইরা ইজারা এনেছেন। আমি তাদেরকে বিল ফিসিং করতে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। সমিতি গঠন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আমার অবদানেই সমিতি চলমান আছে। মূলত বিলটি ফিসিং করছে ভাগিদাররা। এতো বড় বিল একা ফিসিং করা যায় না, তাই সমিতির লোকজন ভাগিদার হিসেবে এলাকার লোকজনকে স¤পৃক্ত করেছেন। বিলের পানি শুকিয়ে মাছ আহরণের জন্য বাঁধটি কেটে দিয়েছি।
বিলের ইজারাদার দরগাপাশা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি ছানু মিয়া জানান, বিলটি ইজারা এনে ভাগিদারদের দিয়ে ফিসিং করাচ্ছি। বাঁধ কেটে না দিলে আমাদের বিলের মাছ ধরা যাবে না, তাই ভাগিদাররা বাঁধ কেটে দিয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের কোন সুযোগ নাই। আমি ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি। উনার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাঁধটি স¤পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো যাতে এলাকার মানুষের ফসল আগাম বন্যা থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু একটি অসাধু চক্র তাদের জলমহাল ফিসিং করার জন্য বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এই ব্যাপারে উপজেলা কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ জামান জানান, আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলীকে বলেছি, বিলের ইজারাদারকে ডেকে এনে তাদের সাথে কথা বলার জন্য । এই বাঁধটি বিলের ইজারাদারদের বেঁধে দিতে হবে। তবে কোন কারণে তারা বাঁধটি মেরামত না করলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে মেরামত করা হবে।

  • [১]