এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
শনি হাওর, মাটিয়ান হাওর, পাগনা হাওর, করচার হাওর,সমসা হাওরসহ ছোট বড় শতাধিক হাওরের বোর ফসল হারিয়ে হাওরবাসীর কান্নায় আকাশ পাতাল ভারী হয়ে উঠছে। অতি বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে পানি এসে যখন জেলার সব কয়টি হাওরের বোর ধান পানিতে তলিয়ে যায় তখনও কৃষকরা স্বপ্ন দেখছিলেন, জেলার বৃহৎ শনি হাওর ও পাগনার হাওরের বোর ধান কে নিয়ে। কিন্তু কৃষকের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। সর্বশেষ রবিবার মধ্যরাতে শনি হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর এবং সোমবার সকালে পাগনার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বোর ফসল। সোমবার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখে যায়, ফসল হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন কৃষাকরা। কিভাবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করবেন সে চিন্তায় কৃষকরা এখন দিশেহারা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, হাওরে বোর জমি চাষ করতে ব্যাংক, এনজিও এবং গ্রাম্য সুদখোর মহাজনদের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে জমি চাষ করেছিলেন। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এই ঋণ কিভাবে শোধ করবেন সে চিন্তায় এখন চোখে সরষেফুল দেখছেন তারা। ধান তলিয়ে যাওয়ার ফলে সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। ফলে হাওর এলাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে এখন পানির দরে।
জানা যায়, এবছর জেলার বিভিন্ন হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ
করেছিলেন কৃষকরা। জেলায় এ বছর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬শ ৩৪ কোটি টাকার। জেলার ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষার বাঁধে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ চলছিল। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসি ও ঠিকাদারের কাজ সময়মত শেষ না হওয়ায় হাওরগুলো বাঁধ ভেঙ্গে এভাবে পানিতে ডুবছে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, বর্তমান সময়ে হাওর এলাকার কৃষকরা খুব খারাপ সময় পার করছেন। কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এনজিও’র সাপ্তাহিক কিস্তি। আপাতত কিছুদিন সাপ্তাহিক কিস্তি বন্ধ রেখে কৃষকদের একটু সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান জানান, হাওর এলাকায় এত বড় দুর্যোগ এর আগে দেখিনি। হাওরের বাঁধে পাউবোর কোন কর্মকর্তা না থাকলেও স্থানীয় এলাকাবাসী হাওরের বাঁধগুলো স্বেচ্ছাশ্রমে টিকিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্ত নদীতে পানি দিন দিন বাড়তে থাকায় হাওরের বাঁধগুলো টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হয়নি। হাওর এলাকায় এখন শুধু আহাজারি চলছে।