- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফার্মের মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়: কৃষিমন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
ফার্মের মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটস, তিনিও ফার্মের মুরগির মাংস খান। অথচ আমরা এত স্বাস্থ্য সচেতন যে ফার্মের মুরগি খাই না। ফার্মের মুরগি আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন। আমার এখন ইচ্ছা করে টেলিভিশনে গিয়ে বক্তব্য দিতে, বিজ্ঞাপন দিয়ে বলতে যে, ফার্মের মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আমাদের মাছ ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কোভিডজনিত যন্ত্রণা সারা বিশ্বকে আঘাত করেছে। সেখানে আমরা সর্বোচ্চ ভালো পর্যায়ে রয়েছি। অনেক বিশাল বড় রাষ্ট্র চীন এবং ভারত আমাদের চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এটা কোনো অহংকারের বিষয় নয়, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমরা তাদেরও মঙ্গল এবং কুশল চাই। কিন্তু করোনায় আমরা ভালো করেছি। ভালো করার কারণ গবেষকরা তুলে ধরেছেন। আমাদের মূল শক্তি হচ্ছে আমাদের জনগণ।
দেশের ৪৬৬টি উপজেলা থেকে যাচাই করাত প্রাণিসম্পদ খাতের চার লাখ সাত হাজার ৪০২ দুইজন খামারিকে ৪৬৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়। এছাড়াও ৭৫টি উপজেলা থেকে যাচাই করা মৎস্য খাতের ৭৮ হাজার ৮৪ জন খামারিকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।
প্রাণিসম্পদ খাতের তিন লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ জন খামারি, ৯৭ হাজার ৮৩০ জন মুরগি খামারি এবং আট হাজার ২৬৬ জন হাঁস খামারিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ডেইরি খামারের ৩০ শতাংশ এবং পোল্ট্রি খামারি প্রায় ৮০ শতাংশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় আনা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের ইমারজেন্সি ফান্ড রিলিজ কার্যক্রমের আওতায় এ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেসঙ্গে আমরা বাংলাদেশকে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিতে চাই। আমাদের সন্তানদের মেধা যদি বৃদ্ধি ও সৃজনশীল করতে হয়, তাহলে তাদেরকে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াতে হবে। এটাই জাতির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইনশাল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে সত্যিকারের অর্থে একটি উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত করবো।
বাংলাদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশ সত্যিকার অর্থে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। যারা একসময় বলেছিল এ দেশ টিকবে না, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ম্যাকনামারা বাংলাদেশে এসে বলেছিল বাংলাদেশে পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশ যদি পৃথিবীতে স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকেও থাকে, তাহলে বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকবে। আগে আমাদের বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আসতো বিদেশি সাহায্য থেকে। সেটা কমে এখন ২ শতাংশ চলে এসেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সারা পৃথিবীরকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আমরা আর বিদেশি সাহায্যের ওপরে নির্ভরশীল নই।
বাংলাদেশের কৃষির অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কৃষকরা শুধু একটি পণ্য উৎপাদন করে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষি সমন্বিত কৃষি। দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কৃষির উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছি।
প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

  • [১]