- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফাস্ট ফুড স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার
দিনদিন ফাস্ট ফুড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। শিশুর পুষ্টির উন্নয়ন করতে হলে ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। সকলকেই নিজের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে হলেও এসব খাবার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। এজন্য বহুখাতভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি নিয়ে কর্মপরিকল্পনা আমাদের সবার জন্য প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নের হলেও দেশের মানুষের পুষ্টির উন্নয়ন হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে কৃষির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শাকসবজি ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সন্তানদের আমরা পুষ্টি জাতীয় খাবার না দিয়ে অপুষ্টি জাতীয় খাবারের দিকে এগিয়ে দিচ্ছি। দেশের জনগণের পুষ্টির অভাব পূরণ করতে হলে সবাইকে পুষ্টি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সুষম খাদ্যের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। যেসব খাদ্য শরীরে পুষ্টি যোগান দেয় সে সম্পর্কে সকলকে পরামর্শ দিতে হবে।
‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা সবার জন্য পুষ্টি, খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবুন’ প্রতিপ্রাদ্যকে সামনে রেখে বহুখাতভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০’এ সুনামগঞ্জ এর অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ এবং কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ’র সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান।
বুধবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা সুনামগঞ্জ জেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, বহুখাত ভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা শুধু প্রণয়ন করলেই হবে না, বরং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সদস্যদের গুরুদ্বায়িত। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সুনামগঞ্জ জেলার পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রণীত বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন। কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ’র কার্যক্রমের উপর উপস্থাপন করেন কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ কেয়ার বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. হাসানউজ্জামান। বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জ জেলা মডেলের বিস্তার ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ক উপস্থাপনা করেন কেয়ার বাংলাদেশ এক্টিং টিম লিডার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম, পুষ্টি কার্যক্রমের উপর পরপর ৪টি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের সহকারী পরিচালক ডা. ফারজানা রায়হান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আশরাফুল হক, কেয়ার বাংলাদেশ পরিচালক ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার, এনএনএস ও ডাইরেক্টর আইপিএইচএন (ভারপ্রাপ্ত) লাইন ডাইরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, কেয়ার বাংলাদেশ এর কালেক্টিভ ইমপ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ (সিআইফরএন) একটিং টিম লিডার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম। ।
বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার উপস্থাপনা শেষে পুষ্টি কার্যক্রমের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রর্দশনী এবং জেলার বার্ষিক পুষ্টি কর্ম- পরিকল্পনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অতিথিবৃন্দ যৌথভাবে ও পর্যায়ক্রমে ’বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০২০, সুনামগঞ্জ এর অগ্রগতি প্রতিবেদন’; ’বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০২০-২০২১, সুনামগঞ্জ’ এবং ’উপজেলা পুষ্টি প্রোফাইলের মোড়ক উন্মোচন করেন।এসময় কেয়ার বাংলাদেশ এর টেকনিক্যাল অফিসারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল আলীম, মোঃ আব্দুস শুকুর, মো. নাজমুল হাসান ও মো. আলাউদ্দিন হোসেন। এছাড়া কারিগরী সহযোগীতায় ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশ এর আইসিটি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালন করেন ফারজিয়া হক ফারিন (ঢা.বি.) ও কালেক্টিভ ইমপ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ, কেয়ার বাংলাদেশ এর মনিটরিং ইভালুয়েশন এন্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার শ্রী অরূপ রতন দাশ।

  • [১]