স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬ সালে সুনামগঞ্জের নানা ঘটনা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পুরো বছর জুরে নানান ঘটনা ঘটলেও জেলাজুরে আলোচিত ছিল বেশকিছু ঘটনা। সেরা আলোচিত কিছু ঘটনা পাঠকদের জন্য তোলে ধরা হলো।
২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব হারান নুরুল হুদা মুকুট। ওই দিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান জেলা যুবলীগের আহবায়ক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন।
দীর্ঘ ৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৭ এপ্রিল জেলা যুবলীগের আহবায়কের পদ হারান ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। নুরুল হুদা মুকুটের ছোট ভাই সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল জেলা যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পান।
এপ্রিল মাসে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অনেকগুলি বোরো ফসলের হাওর অকাল বন্যা ও বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায়। ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গ ও অকালে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার জন্য জেলাবাসী পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পিআইসির শাস্তি দাবি করেন। বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়।
২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ধর্মপাশা উপজেলায় মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের রামদিঘা গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে উপড়ে পড়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জনের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। নিহত হয়েছিলেন রামদিঘা গ্রামে রঞ্জিত সরকার (৪৫)। তার স্ত্রী রীতা সরকার (৩৫) রঞ্জিতের বাবা বৃদ্ধ জগদীশ সরকার (৭০) , প্রতিবেশি রাকেশ দাস’র মেয়ে ৪র্থ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী সোনালী দাস (১০)। বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল। নিহতদের মৃতদেহ বিদ্যুতের তারে একেবারে পেছিয়ে গিয়েছিল। ৪ জনের মৃত্যুই ছিল খুবই মর্মস্পর্শী। এ ঘটনায় ৮ মে উচ্চ আদালত নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ কোটি টাকা দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকৃতি প্রেমীসহ পরিবেশবিদদের নানা আলোচনা-সমালোচনা উপেক্ষা করে রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের মাঝে জোৎ¯œা উৎসব করেছিল তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ। এঘটনায় বেশ কিছুদিন টাঙ্গুয়ার পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে মুখর ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক।
১৯ অক্টোবর সারা দেশজুরে মৃদু ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার উপজেলার ডিঙ্গাপুতা হাওর। ভূমিকম্পের মাত্রা কম থাকায় তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
২০ সেপ্টেম্বর দিরাই-শাল্লায় একদিনে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু। দিরাই উপজেলা ৩ জন ও শাল্লা উপজেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর শাল্লা উপজেলা সদরে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে নিজ হাতে পিটিয়ে ও তার দোকানে আগুন ধরিয়ে সারাদেশ জুরে আলোচনার জন্ম দেন তৎকালীন ইউএনও আসিফ বিন ইকরাম। পরে জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় সদরে ইউএনও’র শাস্তির দাবি উঠলে তাকে শাল্লা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের মৃত সৈয়দুর রহমানের ছেলে বদরুল আলম। এঘটনায় দেশ-বিদেশে আলোচনার ঝড় ও কঠিন শাস্তির দাবি উঠে।
নিজের স্কুল ছাত্রীকে নানাভাবে যৌন হয়রানীর অপরাধে ২৫ অক্টোবর জামালগঞ্জ উপজেলার ঝুনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তফা রকিবকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
২ নভেম্বর ঢাকায় জঙ্গি তৎপরতার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামরাবন্দ গ্রামের পশু চিকৎসক আবুল কাশেমের স্ত্রী সুলতানা বেগম কচি আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের বিষয়টি সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হলে জেলা জুরে তোলপাড় শুরু হয়।
৩১ অক্টোবর ছাতকে মন্দিরে হামলা ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তেমন বড় কোন ঘটনা ঘটেনি। ২০ নভেম্বর রাতে দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মহাদেব গাছে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের পল্লী বাউল জবান আলীর ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে’ গান নিয়ে প্রতারণার করায় গীতিকার কবির বকুল ও চলচিত্র পরিচালক পিএ কাজলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে আদালত। বিষয়টি সারাদেশ জুরে আলোচনার জন্ম দিলে কবির বকুল সুনামগঞ্জে এসে ওই গানটি জবান আলীর বলে স্বীকার করেন এবং পর আদালত থেকে জামিন নেন।
১০ ডিসেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের রুপাবালী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহ’র নামে বহাল থাকার বিষয়টি প্রকাশ হলে জিন্নাহ’র নাম পরিবর্তনের দাবি উঠে।
১৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ব্রাক্ষণগাঁও লোকনাথ মন্দিরে পাঁচটি প্রতিমা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। মন্দির পরিচালনা কমিটির লোকজনের দাবি সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কেউ এই ঘটনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশের ধারণা ওই মন্দিরের ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করেই প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা হতে পারে। এঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে।
সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নুুরুল হুদা মুকুট। প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনকে ৪২০ ভোটে পরাজিত করেন মুকুট। প্রতিদ্বন্দ্বি দুই লন্ডন প্রবাসী চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আহবাব হোসেন চৌধুরী পান ৪ ভোট ও চঞ্চলা দাস পান মাত্র দুই ভোট। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আহবাব হোসেন চৌধুরী ও চঞ্চলা দাসসহ আরো ১৩ জন সদস্য প্রার্থীকে ভোট দেননি তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীরা।