- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করুন

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত সেশন ফিস না নেয়ার দাবিতে ছাত্রবিক্ষোভ অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার আন্দোলনকারী ছাত্ররা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা আটকিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হলো, বিগত বোরো মৌসুমে শতভাগ ফসল হারিয়ে জেলার অভিভাবকবৃন্দ এখন অর্থনৈতিকভাবে খুব দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এরকম অবস্থায় তারা সন্তানদের লেখাপড়ার ন্যূনতম খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এখন যদি সেশন ফিসের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় তাহলে সেটি তাদের জন্য চরম বিড়ম্বনাকর বিষয় হবে। আন্দোলনকারীরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়ে সমস্যার সমাধান কামনা করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি দাখিল প্রভৃতির মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে আসছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই দাবিতে তারা অনড় অবস্থানে রয়েছেন, প্রয়োজনে দাবি আদায়ের জন্য তারা ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিতে পারেন। সবকিছু মিলিয়ে কলেজে অতিরিক্ত ফিস আদায় না করার দাবিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জনপ্রিয় দাবি হিসেবে সামনে উঠে এসেছে।
শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানিয়ে আসছেন তা খুবই যৌক্তিক। পরীক্ষার ফিস, ভর্তি ফিস থেকে শুরু করে নানা বাহানায় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এসব ফিসের পরিমাণ সম্পর্কে শিক্ষাবোর্ড ও সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিষ্কার নীতিমালা আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ওই নীতিমালার প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়ে মনগড়া হারে টাকা আদায়ের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অতিরিক্ত ফিস গ্রহণের বিষয়টি খোলামেলা চিত্রে পরিণত হলেও এখানে লাগাম টানতে কখনও কোন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিকে দেখেও না দেখার ভান করে সযতেœ এড়িয়ে চলেন সবসময়।  এদিকে সন্তানের এরকম বিধিবহির্ভূত খরচের চাপ সামলাতে গিয়ে আমাদের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানের অভিভাবকগণ কী নিদারুণ অর্থকষ্টে পতিত হন সেটি কখনও সামনে আনা হয় না।
আমাদের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বিদ্যালয় বা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ফিস পরিশোধে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত শিক্ষা দানের বিষয়টি সর্বদাই উপেক্ষিত থাকছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যত শিক্ষা দানের বিষয়টি অপাঙক্তেয় হয়ে উঠেছে। এই কারণে প্রাইভেট পড়াতে যেয়ে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে করে দরিদ্র বা প্রান্তিক মানের নাগরিকের সন্তান-সন্ততিদের প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যার্জনের পথগুলো ক্রমশ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে এরকম নৈরাজ্য কখনও কাম্য নয়।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ কর্র্তপক্ষের প্রতি আমাদের অনুরোধ, ফসল হারানোর এই বছরে আপনারা ফিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে যতটুকু না হলে নয় ততটুকু ফিস গ্রহণ করুন। এতে আপনাদের ভাবমূর্তি অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে। কলেজে যারা পড়াশোনা করছেন তারা এই দেশের সন্তান। আপনার আমার কারও না কারও সন্তান তারা। শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসা এই ছাত্র-ছাত্রীদের অসহায়ত্ব অনুধাবন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

  • [১]