আকরাম উদ্দিন
কালবৈশাখী বাতাসে বোরো ধানের প্রথম পর্যায়ের ফুল ঝরে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সারা জেলার ন্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উপর দিয়েও দুই ঘণ্টাব্যাপী এই কালবৈশাখী বাতাস আঘাত আনে গত এক সপ্তাহ আগে। এই বাতাসে উপজেলার পুটিয়ার হাওর, খরচা ও আঙ্গারুলি হাওরের কিছু অংশে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাওরের একাধিক কৃষক জানান, ফুল থেকে প্রথমে দুধ হয়, দুধ থেকে ক্ষèীর হয়। এই ক্ষèীর পাকাপোক্ত হয়ে ধানের ভেতরে চাউল হয়। ওইদিন কালবৈশাখী বাতাসে ধানের ফুল ঝরে পড়ায় ছড়ার ধান সাদা রঙ ধরে ছিটায় পরিণত হয়েছে। রোদ ও বৃষ্টিতে ভিজে ধানে কালো রঙ ধরেছে। ধানের ভেতর হয়েছে চাল শূন্য।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, কালবৈশাখী বাতাসে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি, সিলডোয়ার, মধ্যনগর রিজার্ভ, মাছিমপুর, সোনাতলা, শরীফগঞ্জ, কাটাখালী, কান্দারগাঁও, আসামগাঁও প্রভৃতি এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে কালবৈশাখী বাতাসে ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের জলিলপুর, গন্ডামারা, খচমা হাওরের কিছু এলাকায়।
ধনপুর ইউনিয়নের মধ্যনগর রিজাভ গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ, বাবুল মিয়া, আঞ্জুমান মিয়া, রায়হান মিয়া, জুনায়েদ মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে এক বিকালে প্রচন্ড বেগে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বাতাস বয়ে যায়। ২-১ দিন পর এক বিকালে জমিতে গিয়ে দেখা যায় ধানের ছড়ায় (শীষ) সাদা রঙ ধরেছে। ধানে হাত দিয়ে দেখি ধানের ভেতরে কিছুই নেই।
কাটাখালী কান্দাগাঁওয়ের সেলিম আহমদ, লাল মিয়া, আব্দুন নুর মিয়া, নুরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম আলী বলেন, জীবনেও এমন বাতাস ধরেনি ধানের জমিতে। বাতাসে ক্ষতি হয় ধান গাছ নেতিয়ে পড়লে। এবার ধানের সকল ফুল ঝরে পড়েছে।
সোনাতলা গ্রামের কৃষক হাসেন আলী, শাহ আলম বলেন, প্রথমে খরায় ধরে জমিতে। পরে দুই একদিন বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফুল আসে। এই ফুল উড়িয়ে নিয়ে যায় বাতাসে।
দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরানগাঁওয়ের কৃষক নাজির মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মাইন উদ্দিন, নুর মিয়া, বুরহান উদ্দিন বলেন, এবার দিনের বেলায় বৃষ্টি ছাড়া প্রবল বাতাস হওয়ায় জমিতে ধানের ফুল ঝরেপড়ে সকল ধান চিটায় পরিণত হয়েছে।
বসন্তপুর গ্রামের কৃষক নুর মিয়া, জীবনেও এমন ঘটনা দেখিনি। রিজিকে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বার বার। প্রথমে খরায় সমস্যা হয়েছে, এখন আবার কালবৈশাখী বাতাসে।
গন্ডামারা গ্রামের কৃষক আলাল মিয়া বলেন, রাতের বেলায় বাতাস বা ঝড়বৃষ্টি হলে ধানের ফুলের এতোটা ক্ষতি হতো না। দিনের বেলায় ধানের ফুল বাইরে থাকে। রাতে ধানের ভেতরে ফুল ঢুকে থাকে।
ধনপুর ইউপি’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামছুল আলম (বিধু) বলেন, দিনের বেলায় কালবৈশাখী বাতাসে বোরো ধানের প্রথম পর্যায়ের ফুল ঝরেপড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধানের ফুল দিনের বেলায় বাইরে থাকে। রাতের বেলায় এই ফুল ধানের ভেতরে ঢুকে থাকে। যে ধানের ফুল ঝরে পড়েছে, এখন এই ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। একই গাছে পরবর্তীতে যে ফুল আসবে যদি বাতাসে না পড়ে তখন ধান হবে।