ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শূন্য ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষে একজন শিক্ষকের অবস্থান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র ফেসবুকে লাইভ করায় সারোয়ার জাহান মামুন নামের সেই ফেসবুক ব্যবহারকারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা ১৪ মিনিটে সরস্বতীপুর গ্রামের ওবায়দুল হক নামের এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে সারোয়ার জাহান মামুনকে এ হুমকি দেন। ওবায়দুল হক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদা বেগমের আপন মামা ও জয়শ্রী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসু মিয়ার ছেলে। সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার জাহান মামুন রবিবার বিকেলে চারটার দিকে তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তার ফেইসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সারোয়ার জাহান মামুন সরস্বতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদা বেগম অফিসকক্ষে বসেছিলেন এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থী শূন্য ছিল। লাইভের ভিডিও মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে সারোয়ার জাহান মামুনকে মাকসুদা বেগমের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার জন্য হুমকি দেওয়া শুরু করে।
সারোয়ার জাহান মামুন বলেন, ‘কাউকে হেয় করার জন্য নয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মাধ্যমে গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষাকে গতিশীল করার জন্য লাইভ করেছি। এতে মাকসুদা বেগমের মামা ওবায়দুল হক আমাকে দেখে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে মাকসুদার পরিবার বিচার সালিশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
অভিযুক্ত ওবায়দুল হক বলেন, ‘মামনুকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। তার সাথে পারিবারিক ব্যাপারে কথা হয়েছে।’
ওবায়দুল হকের বাবা শামসু মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে হুমকি দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে তার (মামুন) গোষ্ঠীর লোকজনের কাছে বিচার দিয়েছি। শিক্ষকের (মাকসুদা) ছবি ইন্টারনেটে দেওয়ায় আমরা রাগ হয়েছে। শিক্ষক (মাকসুদা) বিদ্যালয়ে বসে থাকে আর শিক্ষার্থী না আসলে জোর করে নিতে পারবো?’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘এ ধরনের কাজ (হুমকি) না করার জন্য শিক্ষককে (মাকসুদা) বলে দিবো।’
উল্লেখ্য, রবিবার সুনামগঞ্জের খবরে সরস্বতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে ‘শিক্ষার্থীশূন্য বিদ্যালয়’- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।