সু.খবর ডেস্ক
‘কুলিং ব্রেক’ পেতে যেন চাতক পাখির মতো চেয়েছিলেন খেলোয়াড়েরা। ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মাঠের মাঝখান থেকে হাঁসফাঁস করতে করতে ছুটে আসছিলেন ডাগআউটে। একটু ঠান্ডা পানি মাথায় ছিটিয়ে আবারও দৌড় দিচ্ছিলেন মাঠে। তবে এই গরমেও ঠান্ডা মাথায় আবাহনীর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে রইলেন জর্জ কোটান। মুখে লেগে ছিল স্নিগ্ধ হাসি। অনেক দিন পর আজ আবার আবাহনীর ঘরে শিরোপা এল এই অস্ট্রিয়ান কোচের হাত ধরে। আবাহনী সর্বশেষ কোনো টুর্নামেন্ট জিতেছিল ২০১১ সালে। সুপার কাপ জয়ের পর আর কোনো ট্রফিই ধানমন্ডির ক্লাবটিতে যায়নি।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আরামবাগকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। একমাত্র গোলটি করেছেন ব্রিটিশ ফুটবলার লি টাক। সেই গোলটি ম্যাচের ১১ মিনিটে। বক্সে বল পেয়ে লি একক চেষ্টায় আরামবাগ গোলরক্ষক মিতুলের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দেন জালে।
গোল শোধে মরিয়া আরামবাগ অবশ্য বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু দলের বড় অস্ত্র ক্যামেরুন স্ট্রাইকার ইয়োকো সামনিক বাইরে মেরেছেন বল। কখনো বক্সে ঢুকে খেই হারিয়েছেন। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যাচে ফেরার দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিল আরামবাগ। তরুণ ফরোয়ার্ড জাফর ইকবালের শট আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেল ফিস্ট করেন। বক্সের সামনে দাঁড়ানো আবদুল্লাহ ওই ফিরতি বলে পা ছোঁয়াতে পারলেই চলত। কিন্তু সেটিও পারলেন না।
প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে আবাহনীর জন্য এই শিরোপাটা এসেছে বড় এক প্রেরণা হয়ে। গত এপ্রিলে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠেও চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরেছিল আকাশি-নীলেরা। এরপরই আবাহনীর দায়িত্ব নেন জর্জ কোটান। টানা দ্বিতীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা আবাহনী এবার আর খালি হাতে ফেরেনি। প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে এই ট্রফিটা নিশ্চয় আবাহনীর আত্মবিশ্বাসের পালে লাগবে নতুন হাওয়া।