- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফের বন্যার পদধ্বনি

চলতি বন্যায় তলিয়ে গেছে সাচ্নাবাজার-সুনামগঞ্জ সড়কের কুকড়াপশী বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন ঘরটি বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
বর্ষার অঝোর ধারা শরতে অব্যাহত থাকায় আবারও পুরো জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা তিন দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চতুর্থ দফা বন্যার কবলে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গত দু’দিনে যে হারে পানি বেড়েছে সেই হারে পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে আবার আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়াতে হবে দুর্গত মানুষকে। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে হাওর এলাকার অনেক বাড়িঘর, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাস্তাঘাট। গ্রামীণ জনপথ ছাড়াও জেলা শহরের সাথে ৪ টি উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যায় ভেসে গেছে জেলার ২১৯০ হেক্টরেরও বেশি আমন জমি।
গত জুলাই-আগস্টের ৩ দফা বন্যা শেষে আবার চতুর্থ ধাপে দেখা দেওয়া এই মাঝারি বন্যা ভুক্তভোগীদের আবারও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে হাওর অধ্যুষিত নি¤œাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছবে। এই অবস্থায় বন্যা উপদ্রুতদের সাহার্য্যার্থে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ। তবে গেল দু’দিনে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে পানি বাড়ার গতি কমেছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা পাউবো অফিস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওরপারের অধিকাংশ বাড়িঘরই ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার বন্যা আসায় আরও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে তাদের জীবন ধারণ। এখনকার মাঝারি বন্যায় অনেক বাড়িতেই পানি উঠেছে। আবার কিছু কিছু বাড়ির কানায় কানায় বানের পানি লেগে আছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে নি¤œাঞ্চলে বসবাস করা এসব মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে। বন্যায় ভেসে যাওয়া এসব ঘরবাড়িতে নিজেদের বেঁচে থাকা তো কষ্টকরই, এর মাঝে গরু-বাছুর নিয়ে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদেরকে। এছাড়া আছে প্রবল আফালে ধেয়ে আসা ঢেউয়ের তা-ব। উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামের মো. আশিক নূর বলেন, ‘হাওরের মাঝে আমাদের বাড়ি। পানি বাড়লেই বাড়িঘরে পানি উঠে মারাত্বক কষ্টের মধ্যে ফেলে দেয়। এখনও অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে, আবার অনেক বাড়ির মুখে মুখে পানি আছে। এবারের বন্যাটা আবার মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
সাচনা বাজার ইউনিয়নের সেরমস্তপুর গ্রামের মো. মোছাব্বির মিয়া বলেন, ‘আবার দুর্গতির সময় আইসা গেছে। আগের পানিতে পাকের ঘর ভাইঙা গেছিলো, এখনও ঠিক করতে পারি নাই। আবার পানি আইছে, আবার কোমর পানি ভাইঙা বাড়িতে উঠন লাগে। বাড়িঘরে পানি থাকায় খুব কষ্টের মধ্যে আছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১ উপজেলায়ই এবার ৮১ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২১৯০ হেক্টর আমন জমি চলতি বন্যায় ডুবে গেছে। তবে চাষীরা বলছেন, ডুবে যাওয়ার জমির পরিমাণ এর চেয়ে বহু গুণ বেশি হবে। সবমিলে এ বন্যায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটসহ আমন চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সাচনা বাজার ইউনিয়নের কান্দাগাঁও গ্রামের আমন চাষী মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘৭ কিয়ার জমিনে আমন ধান রোপণ করছিলাম। সবগুলো পানিতে ডুইব্যা গেছে। আর ভরসা নাই। এই বন্যায় শুধু জমিনের আমন ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, রাস্তাঘাট-বাড়িঘর সবকিছুরই মারাত্বক ক্ষতি হইবো। তিনবার-চারবার বন্যা হইলে মানুষ কেমনে বাঁচবো।’
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আপাতত পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। গত শুক্রবার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। শনিবার তা কমে পানি রয়েছে বিপদসীমার বরাবর। সুনামগঞ্জে যে বন্যাটা হয়, তার মূল কারণ পাহাড়ী ঢল। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ) চেরাপুঞ্জিতে ৪২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে অধিক পরিমাণ বৃষ্টি হলে এই পানি নামলে তো বন্যা হবেই। এখন পাউবোর যে পূর্বাভাস রয়েছে তাতে আজ শনিবার থেকে পানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ জানিয়েছেন, শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১১ উপজেলায় দুই হাজার ১৯০ হেক্টর রূপা আমন পানিতে ডুবেছে।

  • [১]