ধর্মপাশা প্রতিনিধি
১১ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন শফিকুল স্থানীয় বাজারে গিয়ে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখোঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। তখন স্থানীয় থানায় জিডি করাসহ হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রকাশ করা। কিন্তু কেউ কোনো সন্ধ্যান দিতে পারেনি। শফিকুলের শোকে কাতর হয়ে ৪ বছর আগে তার (শফিকুল) মা বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। কিন্তু হঠাৎ অমৃতজ্যোতি সামন্ত নামের একজনের ফেসবুকে পাওয়া যায় শফিকুলের একটি ভিডিও চিত্র। সেই ভিডিও চিত্র শফিকুলের পরিবারের লোকজনের নজরে আসে। শফিকুলের পরিবার যোগাযোগ করেন অমৃতের সাথে। অমৃত বিষয়টি স্থানীয় থানাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে রাখেন। বৃহস্পতিবার দুুপুরে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানা থেকে শফিকুলকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শফিকুল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরকাওনা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান ও মৃত জমিলা খাতুন দম্পতির ছেলে।
শফিকুলের বড় বোন তাসলিমা আক্তার জানান, তিন বোনের মধ্যে শফিকুল তাদের একমাত্র ছোট ভাই। ২০১১ সালের ১৭ জুন স্থানীয় মনিরকান্দা বাজার থেকে শফিকুল হারিয়ে যায়। এরপর তাকে অনেক খোঁজাখোঁজি করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। গত সোমবার মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের বৈঠাখালি নতুনপাড়া গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা অমৃত জ্যোতি সামন্ত শফিকুলকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা শফিকুলের এক আত্মীয় প্রথমে দেখতে পান। ওই আত্মীয় সাথে সাথে শফিকুলের পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের লোকজন অমৃতের সাথে যোগাযোগ করেন।
অমৃত জ্যোতি সামন্ত বলেন, ‘শফিকুল প্রথমে মধ্যনগরের তেলিপাড়া গ্রামে ইদ্রিস আলী ও পরে মধ্যনগর গ্রামের আক্কাস আলীর বাড়িতে দিন যাপন করে। এক পর্যায়ে আক্কাস আলীর বরফ মিলে কাজ শুরু করে। কিন্তু কারও কাছে তার সঠিক পরিচয় বলতে পারতো না। একেক সময় একেক ঠিকানা বলতো। ফলে সে যাদের আশ্রয়ে ছিল তারাও তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একদিন তার সাথে আলাপ হলে তার বলা অসংলগ্ন ঠিকানার সূত্র ধরে তাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করি। আর এতেই সে তার পরিবারের লোকজনের সন্ধ্যান পায়।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শফিকুলের বড় বোন তাসলিমা আক্তার, স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুম আলমসহ কয়েকজন মধ্যনগর আসেন। পরে দুপুরে মধ্যনগর থানার ওসি মো. জাহিদুল হক সমস্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিক ফারুকী, অমৃতসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে শফিকুলকে পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে অমৃতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শফিকুলের পরিবার।
মধ্যনগর থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘অমৃতের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমস্ত তথ্য ও উপাত্ত যাচাই বাছাই করে গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে শফিকুলকে তার বড় বোনসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’