- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ফেসবুক প্রতারণার শিকার হয়ে সুনামগঞ্জে টাকা খোয়াচ্ছেন অনেকে

স্টাফ রিপোর্টার
ফেসবুকে দেশের বাইরে থেকে একজন ক্যানসার আক্রান্ত বয়স্ক নারী প্রথমে বন্ধু হতে অনুরোধ পাঠানোর পর তিনি সেটি গ্রহণ করেন । এরপর ম্যাসেঞ্জারে কথা শুরু। এক পর্যায়ে ওই নারী তাকে ছেলে হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর তিনি জানান, তাঁর অনেক টাকা, কিন্তু কেউ নেই। এই টাকা তিনি বাংলাদেশের গরিব মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চান। সেই টাকা তিনি তার কাছে দেবেন। পরবর্তীতে নানা প্রক্রিয়ায় ওই নারী ও তার লোকজন ‘ছেলের’ কাছ থেকে ১ লাখ ৬৫টি হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন জানা গেছে, সবই ছিল ভুয়া। টাকা উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে থানায় আবেদন করেছেন প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি।
প্রতারণার শিকার হওয়া সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা সম্ভ্রান্ত পরিবারের ওই ব্যক্তি (৬২) নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি বলেছেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। শহরের অনেকেই চিনেন—জানেন। এখন লজ্জায় পড়ে গেছি। পরিবারের কাউকে বলতে পারছি না। আবার এতগুলো টাকা গেছে, সেটা সইতেও পারছি না। ব্যাংকের মাধ্যমে দুই দফা টাকা পাঠিয়েছি। রসিদ আছে। দেখি পুলিশ কতটুকু সহযোগিতা করতে পারে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, শুধু একজন নয়, ফেসবুকে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এ রকম আরও কয়েকটি ঘটনা আছে শহরে। তারা তদন্ত করছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিজেকেই সচেতন হতে হবে। নানা প্রলোভন দেখিয়ে এসব করা হয়। আবার কেউ কেউ লোভে পড়ে টাকা দিয়ে দেন। পরে আফসোস করেন।
পুলিশের কাছে ষোলঘর এলাকার ওই ব্যক্তির দেওয়া আবেদন থেকে জানা যায়, ‘রানভীর ভাটি’ নামের একটি আইডি থেকে এক নারী তাকে প্রথমে ফ্রেণ্ড রিকুয়েস্ট পাঠান। ওই নারী জানান তিনি আমেরিকার বাসিন্দা। এক পর্যায়ে ওই নারী জানান চিকিৎসক বলেছে তিনি আর বেশি দিন বাঁচবেন না। তার অনেক টাকা। সেগুলো তিনি বাংলাদেশর মানুষের জন্য ব্যয় করবেন। কিভাবে টাকা পাঠাবেন সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ষোলঘরের ওই ব্যক্তি এক পর্যায়ে তার ব্যাংক একাউন্টসহ যাবতীয় তথ্য তার কাছে পাঠান। কিন্তু পরে তাকে জানানো হয় এত টাকা একাউন্টে পাঠানো যাবে না। পরে সিদ্ধান্ত হয় একটি আন্তজার্তিক কুরিয়ারের মধ্যে টাকা পাঠানো হবে। ‘আটলান্টিক কুরিয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেছেন জানিয়ে সেই কাগজপত্র তাকে পাঠান ওই নারী। তাকে জানানো হয়, সব কিছু প্রস্তুত, পরদিন ইউলিয়াম জেমস নামের এক ব্যক্তি তার বাসায় পার্সেলটি পৌছে দেবে। তবে তার আগে কাস্টমস ফি বাবদ ৫৬ হাজার টাকা দিতে বলা হয় তাকে। না হলে ঝামেলা হতে পারে। এরপর তিনি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ওই প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি একাউন্টে সেই টাকা পাঠান। পরে তাকে রসিদও পাঠানো হয়। পরদিন যখন তিনি পার্সেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন এক ব্যক্তি ওই কুরিয়ারের পরিচয় দিয়ে তাকে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। তিনি প্রথমে রাজি হননি। পরে তিনি ১ লাখ টাকা পাঠান। পরদিন আবার ৮০ হাজার টাকা চাইলে তাঁর ‘হুশ’ হয়, তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বলেন, আমি কিভাবে কি করেছি বুঝতেই পারিনি। আমাকে একটা ঘুরের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল ওরা। কাগজপত্র দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এরা প্রতারণা করছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, উনার বিষয়টি তদন্ত করতে আমি ঢাকায় গিয়েছি। তিনি যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা দিয়েছেন সেই একাউন্ট ভুয়া। সিটি কর্পোরেশন থেকে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে করা হয়েছে। কোনো কুল—কিনারা পাচ্ছি না। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু একটা নয়, আরও ঘটনা আছে।

  • [১]