এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জন্য গত শুক্রবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে চলমান ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য সাজেদা আহমেদকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ২৯৩ নম্বর সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাকে জানান, চলতি বছরের ২৫ আগস্টের মধ্যে টাকা জমা না দেওয়ায় নতুন কেউ এককালীন বা আজীবন দাতা সদস্য হয়নি। কিন্তু ১৩ আগস্ট সাজেদা আহমেদ দাতা সদস্য ফি ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম সেই টাকা গ্রহণ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে ওই সভায় প্রধান শিক্ষক কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘এমন রেজুলেশন হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। যদি কিছু বলতে হয় তাহলে আদালতে গিয়ে বলবো।’
সাজেদা আহমেদ বলেন, ‘গত শনিবার খসড়া ভোটার তালিকা চেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করলেও প্রধান শিক্ষক তা সরবরাহ করেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাতা সদস্য ফি পরিশোধ করলেও পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত ভোটার তালিকায় আমাকে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।’
বিদ্যালয়ের ম্যানিজং কমিটির সভাপতি সনজিদা আক্তার বলেন, ‘একজন নারী সভাপতি হওয়ায় একটি চক্র শুরু থেকেই পেছনে লেগে আছে। দাতা সদস্য হওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে কেউ টাকা জমা দেয়নি।’ সাজেদা আহমেদ টাকা জমা দিয়েছেন এবং তাঁর কাছে রশিদ রয়েছে বলে জানালে সনজিদা আক্তার বলেন, যেদিন টাকা জমা দিয়েছেন সেদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছুটিতে ছিলেন। তাহলে তিনি টাকা নিলেন কিভাবে?’
তিনি জানান, এই বিদ্যালয় তাঁর পারিবারিক পূর্বসূরিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে। এখানে কোন অনিয়ম হোক কিংবা বিদ্যালয়টির কোন ক্ষতি হোক এটি তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেন না। যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বা অনিয়ম করার চেষ্টা করছে, তারা বিদ্যালয়ের ভাল চায় না।