জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
বখাটের যন্ত্রণায় বাড়ি থেকে পালিয়ে থাকা স্বামী পরিত্যক্তা তরুণীকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বখাটেরা মেয়েটিকে বাড়িতে না পেয়ে সোমবার রাত ১ টায় বাড়িতে ঢুকে ওই নারীর বাবাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ৪ বখাটেকে রাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সকালে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পুলিশ নির্যাতিত মেয়েটিকে তার আত্মীয়ের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের অভয়নগর গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত শামীম আহমদ নামের প্রধান আসামিকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারে নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সাত বছর আগে গোতগাঁও গ্রামের ওই মেয়ের বিয়ে হয় নবীগঞ্জ উপজেলার রাজারবাগ গ্রামে। দুই বছর আগে তাদের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দিলে একমাত্র পুত্র সন্তান কে নিয়ে মেয়েটি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে এলে গ্রামের আগুর মিয়ার বখাটে ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শামীম মিয়ার কুনজর পড়ে মেয়েটির ওপর। শামীম প্রায়ই স্বামী পরিত্যক্তা মেয়েকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিত। তার অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে মেয়েটির বাবা গোতগাঁও থেকে সরে এসে আলীগঞ্জ বাজারে একটি কলোনিতে ঘর ভাড়া করে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। সেখান থেকেও শামীম এক মাস আগে মেয়েটি কে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি অভিযোগ করেছেন তার মেয়েকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে ‘খারাপ’ কাজ করেছে
শামীম। সোমবার রাত ১ টায় শামীম কয়েকজন বখাটেসহ আলীগঞ্জ বাজারের কলোনিতে গিয়ে মেয়েটির খোঁজ করে। মেয়ে কে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং তার বাড়িতে নিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটায়।
পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই আহত বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়াকে উদ্ধার করে। ভোরে ঘটনায় জড়িত লিটন মিয়া, আকাই মিয়া, আলম মিয়া ও দিলাক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সকালে আনোয়ার মিয়াসহ পুলিশ পাঠিয়ে নির্যাতিতা মেয়েকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের অভয়নগর থেকে উদ্ধার করা হয়।
মেয়েটির বাবা জানান, শামীমের অত্যাচারে মেয়ে কে নিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন। শামীম নেশাগ্রস্ত ও বেপরোয়া হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে নালিশ করেও তিনি বিচার পান নি।
স্থানীয় পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান জানান, আলীগঞ্জ বাজার থেকে একদিন ওই মেয়েকে শামীম জোর করে ওঠিয়ে নেবার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় লোকজন এসময় বাধা দেন। শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। আমি ওই সময় মেয়ে ও তার বাবাকে বলে এসেছি আর কখনো এমন হলে আমাকে জানাতে। পরে শামীমকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সে এই অন্যায় কেন করছে, আমার কাছে শামীম দাবি করে সে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে, আমি তাকে কাবিন দেখানোর কথা বলি, কিন্তু পরে সে আর কাবিন নিয়ে আসে নি। আনোয়ার মিয়া বা তার মেয়েও আর কোন নালিশ করে নি।
জগন্নাথপুর থানার সাবইন্সপেক্টর শিবলী মজুমদার জানিয়েছেন, মেয়েটি বখাটে নেশাগ্রস্ত-ইয়াবা ব্যবসায়ী শামীমের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে লুকিয়েছিল। রাতে তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার সময় মুঠোফোন নম্বর দিয়ে আসা হয়। ওই নম্বরে মেয়েটি যোগাযোগ করলে পুলিশসহ বাবাকে পাঠিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্বামী পরিত্যক্তা নারীর বাবাকে মারপিট ও মহিলাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আটককৃত চারজনসহ পলাতক শামীম আহমদকে আসামী করে থানায় নির্যাতিত নারীর মামলা করেছেন। আটক ৪ জনসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় যৌন নিপীড়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শামীম ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে এবং মারপিট করেছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে নির্যাতিতা।
সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবী বলেছেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জগন্নাথপুরের ঘটনা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। নির্যাতিতার কথা শুনা হচ্ছে, নির্যাতিতা মামলায় যা যা উল্লেখ করবেন সব কিছুই রেকর্ড করা হবে। তার সকল বক্তব্যকে সত্য ধরেই কাজ করবে পুলিশ।