স্টাফ রিপোর্টার
বঙ্গবন্ধুর আজীবনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতীক্ষার অকুন্ঠ সমর্থক ও প্রেরণাদায়ী মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব সারাজীবন বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের নিভৃত সহচর হিসেবে বিদ্যমান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। সংগ্রামী জীবনে বঙ্গবন্ধু বহুবার কারাবরণ করেছেন। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয়-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারে বারে পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি ছিলেন, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কাছে ছুটে যেতেন। তিনি তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা বুঝিয়ে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাতেন। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী সহযোদ্ধা হয়ে বাঙালি জাতির জন্য তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (বিপিএম), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার—উল—হালিম, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া প্রমুখ।
সভা সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.জে.এম রেজাউল আলম। এসময় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবনী ভিত্তিক প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
‘মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবস উপলক্ষে দুঃস্থ, অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ২০ জন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ২০০ পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ও ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিল।
প্রসঙ্গত, বঙ্গমাতা ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহাকুমা জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল রেণু। বাবার নাম শেখ জহুরুল হক ও মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম। এক ভাই—দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন।