- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচীও তিনভাগে বিভক্ত হয়ে করলো আ.লীগ

স্টাফ রিপোর্টার
বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পালন করলো সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ। তিন গ্রুপের আলাদা কর্মসূচীতে ব্যাপক জমায়েত হলেও শোকের আগস্টের বিশেষ করে জাতির জনক’এর শাহাদাত বার্ষিকীর দিনটি একসঙ্গে পালন করতে না পারায় বিব্রত দলের অনেক দায়িত্বশীলরাও।
সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের নেতৃত্বে রমিজ বিপণি’র কার্যালয় থেকে শোক মিছিল বের হয়। একই সময়ে শহরের উকিল পাড়া থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নেতৃত্বে এবং সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্ত্বর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নোমান বখ্ত পলিন’এর নেতৃত্বে শোক মিছিল বের হয়।
তিনটি পৃথক মিছিলেই বিপূল সংখ্যক দলীয় নেতা কর্মীর উপস্থিতি ছিল। তবে জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির দায়িত্বশীলদের উকিলপাড়া ও রমিজ বিপণির কার্যালয়ের মিছিলে বেশি দেখা গেছে।
রমিজ বিপণির কার্যালয় থেকে বের হওয়া শোক মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট।
এই মিছিলে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস ও জুনেদ আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আজাদুল ইসলাম রতন, মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সীতেশ তালুকদার মঞ্জু, দলীয় নেতা সবুজ কান্তি দাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ অপু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উকিলপাড়া থেকে বের হওয়া শোক মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন নেতৃত্ব দেন। এই মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড নান্টু রায়, হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুবীর তালুকদার বাপ্টু, কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল আজাদ রুমান, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবু নাসের, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মফিজুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, দলীয় নেতা অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু, আতিকুর রহমান আতিক, তারিক হাসান দাউদ, প্রদীপ পাল নিতাই, অ্যাড. হাসান মাহবুব সাদী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নোমান বখ্ত পলিনের নেতৃত্বে পৌরসভা চত্ত্বর থেকে শোক মিছিল বের হয়। এই মিছিলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম ও অ্যাড. চাঁন মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শুকুর আলী, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আহমদ নূর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুয়েব চৌধুরী, দলীয় নেতা ঝন্টু তালুকদার, বিকাশ কান্তি দে বাবুল, শফিকুল ইসলাম, মোজাহের আলী, সাজিদুর রহমান, সৈকতুল ইসলাম, অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, লিটন সরকার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুমন বখ্ত, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ বখ্ত রাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ভিন্ন আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালন প্রসঙ্গে বললেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচী একসঙ্গে পালনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সকলকে অবহিত করা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কর্মসূচী পালন সংগঠনকে দুর্বল করার প্রয়াস। দেশী—বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলীয় সভানেত্রী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এই সময়ে নেত্রীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করা জরুরি।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বললেন, আমি কর্মসূচী একসঙ্গে করার জন্য সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায় নি। বাধ্য হয়ে আলাদা কর্মসূচী করতে হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনভাবেই যোগাযোগ করা হয় নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি নোমান বখ্ত পলিন বললেন, শাহাদাত বার্ষিকী পালনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কোন সভা হয়েছে বলে আমি জানি না। কর্মসূচীও আমাকে জানানো হয় নি। কোন আয়োজনে দাওয়াতও পাইনি, এজন্য আলাদা আয়োজন করেছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বললেন, দলে বিভক্তি আছে, ভিন্নমত আছে, কোন কর্মসূচী পৃথকভাবে পালন হলে কর্মীরা বিপাকে পড়ে। তবে জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকী’র কর্মসূচী অন্তত আলোচনা করে একসঙ্গে করা গেলে ভালো হত। পৃথক তিন কর্মসূচীর জন্য শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচীতে যেতেও অনেকে বিব্রত হয়েছেন।
শোক দিবস উপলক্ষে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে শোকর‌্যালি এবং রান্না করা খাবার বিতরণ হয়।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি—আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ উপলক্ষে সকাল নয়টায় সুনামগঞ্জ শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রশাসনসহ নানা সংগঠনের পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা হয়েছে।
শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে সকালে প্রথমেই জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্মাঞ্জলী অর্পণ করা হয়।
বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জাতির পিতার ৪৭ তম শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি (ভার্চুয়ালি), বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ রাজনীতিক অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাতির পিতা শোষিত বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এবং তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠন করার লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। আজকে এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে যদি আমরা সকলে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে পারি তাহলে ২০৪১ সালের আগেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশারী দেশ গঠন করতে পারবো।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের কাজে হাত দেন। বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়ন সাধন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রে সেনাবাহিনীর একদল কুচক্রী সদস্য জাতির পিতাকে হত্যা করে। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর দেশ যারা পরিচালনা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সকল স্বাধীকার আন্দোলনের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর অবদান সব মুছে ফেলেছিল। কিন্তু ১৮৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আবার নতুন করে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস মানুষ জানতে পারে। বক্তারা বলেন, জাতির পিতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার জন্য অপরাধবোধ আমাদের সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। এটা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন পথই নেই। জাতির পিতার বাকি হত্যাকারীদের আইনীভাবে ফিরিয়ে আমার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। এরপূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শিরোনামে শিশুদের অঙ্কিত চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও অতিথিবৃন্দ।

  • [১]