- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মর্মার্থ ধারণ করতে হবে

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক প্রামাণ্য ঐতিহ্য রূপে স্বীকৃতি প্রদানকে জাতীয়ভাবে উদযাপনের অংশ হিসেবে শনিবার দেশব্যাপী সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সভা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসব শোভাযাত্রা ও সভাসমাবেশে সরকারি কর্মচারী ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচুর ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয় শোভাযাত্রায়। সবমিলিয়ে শনিবারটি ছিল সারা দেশে অন্য রকমের এক উৎসবমুখরতায় ভরপুর। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যূদয়ের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। এই ভাষণটি দিতে বঙ্গবন্ধুকে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়েছিল মানুষের আবেগ অনুভূতি ও চাহিদাকে। সেইসাথে তাঁকে সতর্ক থাকতে হয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামো সম্পর্কেও। তিনি যখন তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এই ভাষণটি দিচ্ছিলেন তখন পাকিস্তানি সামরিক বিমান সভাস্থলের উপর দিয়ে চক্কর দিয়ে যায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র প্রস্তুত ছিল। অন্যদিকে ছাত্র ও যুবকদের প্রচ- চাপ ছিল তাঁর উপর স্বাধীনতা ঘোষণার। তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানের সাথে ভাগ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সময় উপস্থিত। সেদিন যেন বঙ্গবন্ধু কোন সাধারণ মানুষ ছিলেন না। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিবেচনাবোধ, সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা, রাজনৈতিক কৌশলের দূরদর্শিতা, রণকৌশল, বঞ্চনার ইতিহাস, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা, এবং অবশ্যই হাজার বছরের পরাধীন জাতির স্বাধীনতার প্রবল আকাক্সক্ষা; সবকিছু ধারণ করে তিনি সেদিন হয়ে উঠেছিলেন এক মহামানব। কোন লিখিত খসড়া ছাড়া দেওয়া এই ভাষণে এমন কোন কথা অনুক্ত রাখেননি তিনি যা আমাদেরকে স্বাধীনতা লাভ থেকে এক কদম পিছিয়ে রাখতে পারে। এই ভাষণটিই হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা, প্রেরণার উৎস।
সেদিন বঙ্গবন্ধু যেন এক মহান কবি হয়ে উঠেছিলেন। ভাষণটি হয়ে উঠেছিল এক অমর কবিতা। কবি ও কবিতা মিলে হয়ে উঠেছিল স্বাধীন বাংলার প্রতিরূপ। তাই এই অনন্য সাধারণ ভাষণটি হয়ে উঠে রাজনৈতিক সাহিত্যের অপরিহার্য পাঠ্য। একটি জাতির আবেগ অনুভূতিকে কত সুক্ষতমভাবে ধারণ করা যায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সারা বিশ্বে যখন ছড়িয়ে পড়ে এই ভাষণ তখন এর সারবত্তা, তেজোদ্দীপনা, দর্শন বিশ্ববিবেককে আকৃষ্ট করে দারুণভাবে। এই কাব্যময় তেজোদ্দীপ্ত ভাষণ অবশেষে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে যে আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করল সেখানে জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।
বঙ্গবন্ধু এখন আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর অগণন অনুসারী ছড়িয়ে আছে সারা দেশে। সকলের দায়িত্ব হলো এই রাষ্ট্রটিকে এমন এক মহিমায় বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা যাতে করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে বিশ্ববাসী মনে করতে পারে, এই তো এক মহান নেতার কল্পনার দেশ। এর ব্যত্যয় মানেই ভাষণের অবমূল্যায়ন, বঙ্গবন্ধুর অবমূল্যায়ন। অন্যদিকে এই ভাষণসহ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশেষভাবে জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনাবোধ জাগিয়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা তৈরি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি নিছক কিছু কথামালা নয়। এর একটি আর্থসামাজিক রূপ আছে। সেই রূপটিই সকলের সামনে তুলে ধরতে হবে।

  • [১]