সু.খবর ডেস্ক
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১ দশমিক ৮ শতাংশ, এখন কমে হয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি হতদারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে হতদারিদ্র্যের ছিল ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০৩১ সালে দেশে হতদারিদ্র্য থাকবে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগর অর্থমন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং জাতীয় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এসব কারণেই মূলত দারিদ্র্য ও হতদারিদ্র্য কমেছে।
২০ দশমিক ৫ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি বছর জিডিপি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশক প্রাক্কলন ও প্রকাশ করে আসছে। এ পর্যায়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হয়েছে। হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (হেজ) ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৭, ১০১৮, ও ২০১৯ সালের প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে সবকিছু ব্যবহার করা হয়েছে।
দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে জিডিপি ১ শতাংশ বাড়লে দারিদ্র্য ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে। তবে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়লে দারিদ্র্যের হার কমেছে ০ দশমিক ৮৩৫ শতাংশ।
কয়েক বছর ধরেই দারিদ্র্যের হার কমছে। ২০০০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। একইভাবে ২০০৫ সালে ৪০ শতাংশ, ২০১০ সালে ৩১ দশমিক ৫, ২০১৬ সালে ২৪ দশমিক ৩ ও ২০১৭ সালে দারিদ্র্যের হাম কমেছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে দারিদ্র্যের হাম কমছে। দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু। দারিদ্র্যের হাম কমায় প্রধানমন্ত্রী অনেক উৎফুল্লু। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দারিদ্র্যের হার কমেছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত নয়টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সব প্রকল্পই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
‘বাংলাদশে জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলের আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনকিায়ন’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় সেখানে প্রিপেইড মিটার বসানোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পে ১০৫ কোটি ও ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটিতে ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম