মাও. মুহাম্মদ এমদাদুল হক
প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারও আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। রহমত, বরকত, মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে আমাদেরকে আবারও জাগিয়ে তুলছে এই মাহে রমজান। এই রমজানে আমাদের থেকে অনেকেই এবার পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। এই ভাবে আমাদেরকেও একদিন চলে যেতে হবে পরপারে। কাহারও ভাই, কাহারও বোন, মাতা, পিতা গত এক বৎসরে চিরবিদায় নিয়েছেন।
সওম আরবী শব্দ এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকাকে সওম বা রোজা বলে। রোজা রাখার নিয়ম সর্বযুগেই প্রচলিত ছিল। হযরত আদম (আ:) থেকে শুরু করে নবী মুহাম্মদ (স:) পর্যন্ত সকল নবী রাসূলগণই রোজা পালন করেছেন। আলামা ইবনুল কাইয়্যুম বলেন, ইসলামের প্রথম যুগে তিনদিন রোজা রাখার প্রচলন ছিল। পরে রমজানের রোজা রাখা ফরজ হলে তা রহিত হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস থেকে (রা:) বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা:) মদিনায় আগমন করে দেখেন যে ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কি ব্যাপার? তোমরা এ দিনে সওম পালন করো কেন? এ অতি উত্তম দিন। এইদিন আলাহতালা বনী ইসরাইলকে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন। তাই হযরত মুসা (আ:) এ দিনে সওম পালন করেছেন। একথা শুনে রাসূল (সা:) বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা সুমা (আ:) এর অতি নিকটবর্তী। এরপর তিনিও এইদিনে সাওম পালন করেন ও সকল সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেন। এই আলোচনা থেকে প্রমাণ হয় যে, মুসা (আ:) ইসা (আ:) সহ সকল নবীগণই সওম পালন করেছেন। কিন্তু তাদের সওম ও আমাদের সওম কিছুটা ভিন্ন ছিল। নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আ:) এর রোজা বিশেষভাবে উলেখযোগ্য।
আব্দুলাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করিম (সা:) আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কি সব সময় রোজা রাখ এবং রাতভর নামাজ আদায় কর? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি এরূপ করলে চোখ বসে যাবে এবং শরীর দূর্বল হয়ে যাবে। যে সারা বছর রোজা রাখল সে যেন রোজাই রাখল না। যে ব্যক্তি মাসে তিন রোজা রাখল সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল। আমরা রোজার দিনে আমরা হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে আলাহর নৈকট্য লাভে আমার যেন রমজানের হক সঠিকভাবে আদায় করতে পারি।
লেখকÑ প্রিন্সিপাল, হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) ইসলামিয়া বালিকা মাদ্রাসা, আপ্তাবনগর, সুনামগঞ্জ।