হোসেন তওফিক চৌধুরী
মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর সুকর্ম তাঁকে বিস্মৃতির কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, লেখক-গবেষক বজলুুল মজিদ চৌধুরী খসরু না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১ বছর আগে। আজ ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তাঁর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি শোক-শ্রদ্ধা-ভালবাসায় স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। খসরুর জন্ম ১৯৫২ সালে আর মৃত্যু ২০২১ সালে। হিসাবে ৬৯ বছর। তাঁর মৃত্যু অকাল ও আকষ্মিক বলে বলা হয়। এই জীবনে তিনি অনেক সুকর্ম করেছেন। তাঁর অর্জন অনেক। সিক্ত হয়েছেন সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়।
খসরু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সে জার্মানি চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করে। ১৯৮৩ সালে সে সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ লাভ করে আইন ব্যবসা শুরু করে। সে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। সে সুনামগঞ্জ জজ কোর্টে পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) হিসাবেও সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করে। সে সুনামগঞ্জ জেলার সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) এর সভাপতি ছিল। সে সুনামগঞ্জ জেলার রেডক্রিসেন্ট, জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাথে সম্পর্কিত ছিল। হাওর বাওরের দেশ সুনামগঞ্জ। হাওরের ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য একটি আন্দোলন সূত্রপাত করেন তিনি। এই আন্দোলন হাওর রক্ষা নামে পরিচিত। এই আন্দোলন এখনও চলমান। এই আন্দোলনে হাওরের বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট প্রচেষ্টা চালাতে তৎপর হন। এই আন্দোলনের ফলে সারা জেলায় সর্বত্র এই আন্দোলন গড়ে উঠে এবং সবখানে সতর্ক অবস্থা সৃষ্টি হয়।
খসরু একজন লেখক ও গবেষক। জার্মানির বিবরণ দিয়ে তিনি একটি বই লিখেছেন। এতে জার্মানিততে বসবাসকারী বাঙালিদের জীবন কথা বিধৃত হয়েছে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তি সংগ্রামে সুনামগঞ্জ এবং “রক্তাক্ত ৭১, সুনামগঞ্জ” নামে বই লিখেছেন। তিনি দোয়ারার “হেলাল-খসরু” হাইস্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। হেলাল-খসরু নামে একটি ট্রাস্ট আছে। এই ট্রাস্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধা এবং গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। খসরু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিলেন। সুনামগঞ্জের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। তিনি সাংবাদিক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জে ঢাকার লুপ্ত দৈনিক পূর্বদেশের সংবাদ দাতা ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ থেকে “সুনাম” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। খসরু পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেছেন। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে তিনি সঙ্গী সাথি নিয়ে প্রাতভ্রমন করতেন। এই ভ্রমনকারীরা সোনালী সকালে সদস্য বলে অবহিত ছিলেন। এখনও তাঁর সঙ্গী সাথিরা প্রাতভ্রমন করেন এবং খসরুর স্মৃতি রোমন্থন করেন। খসরু অত্যন্ত অমায়িক ও শিষ্টাচার সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবহার দিয়ে যেকোন লোককে সহজেই আপন করে নিতে পারতেন। তাঁর সম্পর্কে কখনও অশালীন বা কারো সঙ্গে রূঢ় ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে এই হলো খসরু। তিনি মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন। সিক্ত হয়েছেন শ্রদ্ধায়। তিনি মানুষের স্মরণের গ্রন্থিতে বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।
আইনজীবী-কলামিষ্ট।