- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বদরুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন খাদিজা হত্যাচেষ্টার দ্রুত বিচারে সকল সাক্ষীকে সমন, ৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে
সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টার আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচার করতে সব সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে সমন ইস্যু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলমের (২৯) উপস্থতিতে অভিযোগ গঠন হয়। বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আগামী ৫ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ ধার্য করে সকল সাক্ষীকে সমন ইস্যুর নির্দেশ দেন।
ঘটনার ৫৫ দিনের মাথায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে জানিয়ে মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান বলেন, মামলায় মোট ৩৬ জন সাক্ষী। এর বাইরে মামলার বাদীও সাক্ষ্য দেবেন। এই ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণে আদালতের নির্দেশে সকলের নামে গতকালই সমন ইস্যু করে পাঠানো হয়েছে। বিচার দ্রুত করতে ৫ ডিসেম্বর প্রথমদফার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে পরবর্তীতে টানা সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদিজার ওপর হামলার পর মামলা হওয়ার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোপত্রের শুনানি শেষে তা গৃহীত হয়। সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম বেগম উম্মে সরাবন তহুরা এক আদেশে মামলাটি মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে ২৯ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
গতকাল মহানগর হাকিম আদালতে বেলা ১১টায় একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে  হাজির করা হয়। আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত বদরুলের সামনেই অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। প্রায় আধাঘন্টার মধ্যে শুনানি শেষে ৩২৪, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় অভিযোগ গঠন হয়। অভিযোগ গঠনের আগে বদরুলের পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করেন। পরে বদরুলকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
 গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল। ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে বদরুলেকে ধরে পুলিশে দেন। খাদিজাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
৪ অক্টোবর এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একমাত্র বদরুলকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় বদরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে পরদিন আদালতে বদরুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে বদরুল খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা দাবি করে সম্পর্কের টানাপোড়েনে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটান। তবে পুলিশের তদন্তে বদরুলের দাবির কোনো সত্যতা মেলেনি।
সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে খাদিজার বাড়ি। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া সৌদিপ্রবাসী। খাদিজাকে বদরুলের কোপানোর ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত বিচারের দাবিতে গত প্রায় এক মাস সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। অভিযুক্ত বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মনিজ্ঞাতি গ্রামে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী (অনিয়মিত) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুলকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে।

  • [১]