- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বদরুলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল-প্রেম সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা পায়নি পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টার মামলায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম বেগম উম্মে সরাবন তহুরার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আলোচিত এ ঘটনার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে ৩৬ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। আলামত হিসেবে খাদিজাকে কোপানোর চাপাতি, খাদিজার রক্তমাখা জামা, মুঠোফোনে ধারণ করা খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিওফুটেজ ও বদরুলকে ধরা ও গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দের আরও দুটো ভিডিও ফুটেজ ডিভিডি করে অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে বদরুলকেই ঘটনার জন্য এককভাবে দায়ী করা হয়েছে। তাঁর পেছনে ইন্ধনদাতা কাউকে পাওয়া যায়নি। বদরুল ধরা পড়ার পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে কোপানোর ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করলেও পুলিশ এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের সত্যতা পায়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। পুলিশের প্রায় মাসাধিককাল তদন্তের বরাত দিয়ে অভিযুক্ত বদরুলকে খাদিজাকে ধারাবাহিক উত্ত্যক্ত করার ঘটনা থেকে কোপানোর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জবানবন্দিতে বদরুল ঘটনার দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে খাদিজার ওপর নজরে রাখা, কোপানোর জন্য আম্বরখানা থেকে চাপাতি কেনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।   
গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল। ঘটনার পরপরই   জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। খাদিজাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা।
সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে খাদিজার বাড়ি। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া সৌদিপ্রবাসী। ঘটনার পরদিন ৪ অক্টোবর সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বদরুল ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
বদরুল আলম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুলকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে।
খাদিজাকে বদরুলের কোপানোর ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত বিচারের দাবিতে গত প্রায় এক মাস সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দাখিল করা অভিযোগপত্র গতকাল আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে জানিয়ে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে গত ২৩ অক্টোবর বদরুলকে হাজির করা হলে আদালত মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশনার আলোকে অভিযোগপত্র ওই দিন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

  • [১]