ইকবাল কাগজী
সম্প্রতি তাহিরপুরের এরালিয়াকোণা হাওরের একটি ভাঙা বাঁধের পাড়ে
বিমূঢ় বিমর্ষ দাঁড়িয়ে ছিলেন
সমাজতন্ত্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস এবং
ধানচাষের প্রতিবেদন কাব্যের কবি
দেখতে অনেকটা দার্শনিক দার্শনিক জনৈক আলতাফ পারভেজ
সামনে হাওর তখন সাগর হয়ে গেছে, সেখানে ঢেউয়ের খেলা অবিরল
এই ঢেউ মার্কসের বিশ্বব্রহ্মাণ্ডভেদী চোখে
কৃষকের চোখের জলের ঢেউ হয়ে যায়
ঢেউয়ের শব্দগুলো ক্রমাগত বদলে যায়
অনাগত দ্রোহের ধ্বনি হয়ে বদলে যায় হয়ে উঠে বিপ্লবের ঢেউ
একজন পিআইসির সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন
একজন পাউবোর প্রযুক্তিবিদ কর্মকর্তা
গলা খাকারি দিতে দিতে তিনি বললেন, ‘ইঁদুর আর কাঁকড়ারা
হাওরে হাওরে খুব কেরদানি মারে, বন্যা এলেই।
সম্প্রতি বাঁধগুলোকে কেটে কেটে কাগজের মতো কুচি কুচি করতে ছাড়ে নি।
এই দেখুন না, হাওরে পানি ঢুকে গেছে।
ক্ষীরভরা সবুজ ধানের শীষেরা এখন, আকাশের বাতাসের সাথে কানাকানি
অকালে অসমাপ্ত রেখে, জলের তলের সলিল ঘরে পেতেছে সংসার।’
পারভেজ তাঁর কবিত্বময় অধ্যাপকীয়পানা
দেখাতে দেখাতে বললেন, ‘হ্যা, দেখছি তো ।
ইঁদুর ও কাঁকড়ারা কাঠামোগত সহিংসতার প্রযুক্তি প্রয়োগে
আপনার চেয়েও এককাঠি বাড়া।
সত্যি অবাক হতেই হয়, না হওয়ার কোনও যুক্তি নেই। আমি অবশ্যই
এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবো, ঢাকায় গিয়েই এবং
সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিচক্রকে পাউবোর প্রযুক্তিবিদের দায়িত্ব
ইঁদুর অথবা কাঁকড়া যে—কারও অপর অর্পণ করতে সুপারিশ করবো।’
অন্যমনস্ক একমেবাদ্বিতীয়ম দার্শনিক মার্কস
তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন, ‘বদলাবার কথা বলেছো তো ? ঠিক !
এখন ব্যাখ্যা করার সময় নয়, সব কীছু বদলে দিতে হবে।
জগত বদলে দিতে হবে।’
তারপর উনবিংশ শতাব্দীর মার্কস এরালিয়াকোণা হাওরের ভাঙা বাঁধের
উপর দিয়ে হাঁটতে লাগলেন
একবিংশ শতাব্দীর মার্কস পারভেজ তাঁর পাশে
এবং চরাচরে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো কেবল,
‘বদলে দিতে হবে ! বদলে দিতে হবে ! বদলে দিতে হবে ! ….
সুনামগঞ্জ \ ১০.০৪.২০২২