মাহবুবুল হাছান শাহীন
’৯০ দশকে এই শহরে আমাদের যাদের বেড়ে ওঠা তারা এমন ভাবে একজন আরেকজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো যা দূর থেকে বুঝা যাবে না। আমাদের বন্ধু ভাগ্য ছিলো অনেক ভালো। সারাদিন স্কুলে থাকায় স্কুলে ছিলো একঝাঁক বন্ধু। তারপর পাড়াতে, খেলার মাঠে সর্বত্রই বন্ধুর ছড়াছড়ি। শহরের প্রতি পাড়ায় আমাদের বন্ধুরা ছিলো।
আমাদের সময় বছর জুড়ে টেনিস বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হতো। সারা শহর জুড়ে সিনিয়র জুনিয়রদের বন্ধুত্বের মতো ছুটে চলা।
তেমনি একজন বন্ধু তৈমুর। আমাদের খেলার মাঠের বন্ধু। সমসাময়িক ও একই ক্লাবে খেলার কারণে বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি। স্কুল ভিন্ন হলেও বিকেল বেলা প্রতিদিনই দেখা হতো। প্যারামাউন্ট ক্লাবের খেলোয়াড় ছিলাম আমরা।
’৯৫তে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর জোটগত বন্ধুত্ব বিচ্ছিন্ন হতে লাগলো। অনেকেই পড়ালেখা অথবা কর্মক্ষেত্রে অথবা বাবার বদলী বিভিন্ন কারণেই ছড়িয়ে পড়লো। তৈমুর চলে যায় নিজ জেলা ফেনিতে। তারপর আর যোগাযোগ নেই।
ফেইসবুক আবারও ২৫ বছর পর তৈমুরকে সামনে নিয়ে এলো। ১৩ নভেম্বর ২০ প্রথম ফেইসবুকে আবারও দেখা হয়। একটু কষ্ট করে তাকে চিনতে হয়। ইয়া বড়ো দাঁড়ি রেখেছে। নানা ভাই বলার পর হেসে উঠে।
তার পর নিয়মিত ম্যাসেঞ্জারে কথা হতো। প্রায়ই বিভিন্ন মজার ছবি শেয়ার করতো।
সর্বশেষ গত ২১ মার্চে ম্যাসেঞ্জারে পাঠায়… “বাড়িওয়ালা নাইরে বাড়ি নাইরে দুনিয়াতে…” চমৎকার খোদা ভক্তির গানটি পাঠায়। দেখে নিজের অজান্তেই চোখে জল এসে যায়। হঠাৎ করে কেন এমন গান পাঠালো এখন মনে হয় বুঝতে পারছি। খোদা তার প্রিয় বান্ধাকে তার কাছে নেয়ার সংকেত দিয়েছেন।
তার ফেইসবুকে দেখলাম একটা দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তেমন করে বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি।
হঠাৎ করে এক ছোট ভাইয়ের কলে জানলাম তৈমুর আর নেই। অনেকক্ষণ স্তব্ধ ছিলাম। সারাদিন আর ফেইসবুক খুলিনি। আসলে খুলতে ইচ্ছে করেনি।
দিনশেষে কিছু লিখতে ইচ্ছে হলো।
বন্ধু, জগৎ সংসার এমনই। আজ তুমি গেলে, কাল হয়তো আমার ডাক। সুনামগঞ্জে আসতে চেয়েছিলে। সবার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলে। খেলার মাঠের কতশত স্মৃতি। সব পেছনে পড়ে রইলো। চলে গেলে একা। আর কোন দিন দেখা হবে না। ম্যাসেঞ্জারের কথোপকথন তাও হলো বন্ধ।
বন্ধু, পরপারে খোদা তোমার ভালো করুন।
চোখের জলে বিদায় দিলাম তোমাকে।
৫ বৈশাখ ২৪২৯
সোমবার,
সুনামগঞ্জ।