ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
অগ্রহায়ণ মাস প্রায় শেষ। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এখনই সন্ধ্যা—রাত—সকাল পুরোটা সময় গ্রামাঞ্চল ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। শীত যতই ঘনিয়ে আসছে গ্রামাঞ্চলের বিশেষ করে হাওর পাড়ের নিম্ন আয়ের মানুষের চিন্তা ততই বাড়ছে। ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় সময় পার করছেন বিগত ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতির সম্মুখিন হওয়া দরিদ্র মানুষগুলো। কারণ এসব মানুষের শীত নিবারণের গরম কাপড়, কম্বল কিংবা লেপ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। চেয়েচিন্তে সমাজের বিত্তবান কিংবা বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের কাছ থেকে যেসব কম্বল বা লেপ সংগ্রহ করেছিলেন শীতের রাতে আরামে ঘুমানোর জন্য, সেসব গরম কাপড় আর নেই তাদের। যে হারে কাপড়, তুলার দাম আর শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে তাতে দাম বেড়েছে লেপ তোশকেরও। এজন্য গরম কাপড়ের চিন্তা আরও দ্বিগুণ হয়ে দেখা দিচ্ছে তাদের মাঝে।
জানা যায়, গত বন্যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলা, দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও, শিমুলবাক, পাথারিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নষ্ট হয়ে যায় বিছানাপত্র, পোশাক—পরিচ্ছেদ ও গরম কাপড়। বিত্তবান, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ তাদের এ ক্ষত পুষিয়ে নিতে পারলেও খেটে খাওয়া দিন মজুর নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখনো এ বন্যার ক্ষতচিহ্ন বয়ে চলেছেন। শীত বাড়ার সাথে সাথে তাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে গরম কাপড়ের সমস্যা। এটা নিয়ে খুব চিন্তিত তারা। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে উচ্চমূল্যের বাজারে সন্তানদের গরম কাপড় কিনে দেওয়া কিংবা রাতে আরাম করে ঘুমানোর জন্য এক—দুইটি লেপ কিংবা কম্বল কিনে আনা তাদের জন্য বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় কামরূপদলং, আস্তমা, আসামপুর, রসুলপুর, নিদনপুর, বীরগাঁও খালপাড়, ইসলামপুর, কাদিপুর, সিচনীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের সাথে। তারা জানান, ভয়াবহ বন্যায় নিজের জান বাঁচানো যেখানে কষ্টসাধ্য ছিলো সেখানে কাপড় বাঁচানোর কথা তখন চিন্তাও করিনি। প্রয়োজনীয় কিছু জিসিন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন তারা। বন্যার পানিতে ডুবে ও ইঁদুরে কাটায় একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে গরম কাপড়।
কামরূপদলং—এর ফেরা বিবি, আসামপুর শাফিয়া বেগম, কাদিপুরের রাজিয়া বেগম, রসুলপুরের সুফিয়া বেগম বলেন, আমাদের কম্বল—লেপ, চাদর ছিলো। বন্যার সময় নিজেদের পরিবার সামাল দেবো নাকি কাপড় সামলাবো। জীবন বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছি। সব কিছু পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। যেসব কাপড় ভিজেনি সেসব কাপড় ইঁদুরে কেটেছে। শীতের কাপড়ের চিন্তায় এখন দিন কাটছে না। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান, আপনারা তো আরাম আয়েশে থাকবেন, আমাদের গরিবদের কথাও মাথায় রাখবেন।
মেসার্স মাহী ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী দুদু মিয়া বলেন, আমি ইতোমধ্যে ১৫০টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। সব সময় তাদের পাশে আছি। প্রয়োজনে এবছর আরো মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করবো। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান, নিজ নিজ অবস্থান থেকে গরিবদের পাশে দাঁড়ান।
বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক হাজি শাকিল মুরাদ আফজল বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকার মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকি। আশা করছি এ বছরও বিতরণ করবো ইনশাআল্লাহ। প্রবাসী ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান, নিজেরা মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং শীতার্ত মানুষের জন্য যারা অর্থ সংগ্রহ করেন তাদের মাধ্যমেও শীতার্তকে সহযোগিতা করতে পারেন।