স্টাফ রিপোর্টার
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ৪ দিন আগেই তলিয়ে গেছে শহরতলীর জগন্নাথপুর গ্রামের দিপু চন্দ্র বর্মনের বসতঘর। বসত ঘরে গত কয়েকদিন ধরেই প্রায় কোমর সমান পানি জমেছে। তাই জীবন বাঁচাতে পরিবার নিয়ে উঠেছেন গ্রামের আশ্রয় কেন্দ্র জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি উপার্জনের একমাত্র পন্থা মাছ ধরার জাল ও নানা সরঞ্জামাদিও নিয়ে গেছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। এক কক্ষের মধ্যে মা, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এভাবেই আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন জেলে দিপু চন্দ্র বর্মন।
শুধু দিপু বর্মণই নয় গ্রামের আরো ৩টি পরিবার এভাবেই বসত ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন। ওই পরিবারগুলোর সবাই দরিদ্র। জাল দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া পরিবারগুলো চাল-চুলা ছেড়ে পাকা দালান কোটায় অবস্থায় নিয়ে আরো বিপাকে পড়েছেন। সরকারি-বেসরকারিভাবে সামান্য ত্রাণ সামগ্রী দিলেও রান্না-বান্না নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খোলা বারান্দায় স্টিলের একটি পাত্রের মধ্যে মাটির তৈরি অস্থায়ী চুলায় ভাত রান্নার চেষ্টা করছেন দিপু বর্মণের মা আশালতা বর্মন (৫০)। নদীর তীরের স্কুলের বারান্দায় স্টিলের পাত্রের উপর অস্থায়ী চুলায় চেষ্টা করছিলেন আগুন ধরানোর। কিন্তু বার বার আগুন নিভে যাচ্ছিল। তবু হাল ছাড়েন নি তিনি। বাঁেশর টুকরোতে একটু কেরোসিন দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টায় সফল হলেন অবশেষে।
এত কষ্ট করে কিভাবে রান্না-বান্না করেন জানতে চাইলে বৃদ্ধ আশালতা বর্মণ বলেন,‘ কি করবও আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি-ঘরে পানি উইট্টা গেছে। গত ৪-৫ দিন ধইরা ঘরও কোমর পানি। কোন দিন পানি লামব ঠাকুরই জানে। কষ্ট কইরাই বান্দা-বারা করন লাগে। নাইলে উপাস থাকন লাগব। আরো কত মানুষ আমরার মত কষ্টে-দুঃখে আছে।’