- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বন্যার পানিতে নষ্ট ৪ শতাধিক ইজিবাইক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক। ধার-কর্জ করে কেনা এসব বাহনের মালিক ও চালকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক চালক দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। উপার্জনের বাহন ইজিবাইক ঠিক করতে সরকারি সহযোগিতার দাবি তাদের।
১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখো মানুষ। আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি, গবাদিপশু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন হাজারও পরিবার। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষত। এই ভয়াবহ বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাজারও পরিবার। ব্যাংক ঋণ, ধার-কর্জ করে পরিবারের হাল ধরতে কেনা তিন চাকার যানটি পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে আবারও সুদে ঋণ নিয়ে ঠিক করছেন। আবার অনেকে ধারে টাকা না পেয়ে ঠিক করতে পারছেন না উপার্জনের ইজিবাইকটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভা ৬৫০ টি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের নিবন্ধন দিয়েছে। এই ইজিবাইকগুলোর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চারশ’ অধিক। কন্ট্রোলবক্স, মোটর নষ্ট হয়েছে বেশির ভাগ ইজিবাইকের।
চালকরা বলছেন, ধার-কর্জ ও কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক কিনেছিলেন তারা। ইজিবাইকের এসব ঋণ এখনও পরিশোধ হয় নি। ভয়াবহ বন্যায় এই ইজিবাইক নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা তারা। কিভাবে ইজিবাইক ঠিক করবেন এবং ব্যাংক ও মহাজনের ঋণ পরিশোধ করবেন জানেন না তারা।
লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন বললেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে এক বছর আগে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইজিবাইক কিনেছিলাম। এখনও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হয় নি। কয়েকদিন আগের বন্যায় ইজিবাইকের কন্ট্রোলবক্স, মোটর নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো ঠিক করতে প্রায় ১৮ হাজার টাকার প্রয়োজন। হাতেরও টাকা নেই। তাই দিনমজুরের কাজ করে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।
সাহেব বাড়িঘাট এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বললেন, আমি বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইজি বাইক কিনেছিলাম। কেনা ইজিবাইকটি বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েগেছে। কিস্তি দিতে চাপ দিচ্ছে, দিতে পারছি না। ইজিবাইক ঠিকও করাতে পারছি না। ১২ হাজার টাকার প্রয়োজন ঠিক করতে। হাতে এক টাকাও নেই। আমার এলাকার প্রায় ৭০- ৮০ টি ইজিবাইক পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তারাও ব্যাংক ঋণ নিয়ে কিনেছিলো।
বড়পাড়ার বাসিন্দা শফিক মিয়া বললেন, আমার প্রায় ১০ টি ইজিবাইক রয়েছে। সবগুলোই ঋণ নিয়ে কিনেছি। নদীর পাড়ে আমার গ্যারেজ। বন্যার পানিতে চেষ্টা করেছি ইজিবাইকগুলো নিরাপদ জায়গায় রাখতে। তবুও ৬ টি ইজিবাইক নষ্ট হয়েছে। এখনও ব্যাংক ঋণ রয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। কিভাবে এই টাকা পরিশোধ করবো জানি না।
ষোলোঘরের বাসিন্দা বাবুল রায় বললেন, বন্যার পানিতে ইজিবাইকের কন্ট্রোলার নষ্ট হয়েছে। ঠিক করতে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সুদে টাকা নিয়ে ঠিক করেছি। ঠিক না করালে উপুস থাকতে হতো।
সুনামগঞ্জ ইজিবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সোহেল আহমেদ বললেন, পৌর শহরে সাড়ে ৬শ’ ইজিবাইক রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪শ’ ইজিবাইক নষ্ট হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটির কন্ট্রোলবক্স, মোটর নষ্ট হয়েগেছে। সুনামগঞ্জ এই পাটস্গুলো পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে আমাদের সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়াতে পারবো না। অথচ আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা করা হয় নি। পুনরায় কাজ শুরু করতে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চাই আমরা।

  • [১]