বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী সড়কসহ অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আশংকা মোতাবেক বড় কোন বন্যা না হওয়ায় জেলাবাসী বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। গত দুই দিন ধরে আবহাওয়া ভাল থাকায় মানুষের মনের শংকাভাব দূর হয়েছে। কিন্তু ছোট আকারে হলেও এবারের বন্যায় বেশ কিছু রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। এতে করে রাস্তার পলেস্তারা উঠে যাওয়াসহ স্থানে স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। রাস্তার কিনারা ভেঙ্গে পড়েছে এবং কিনারের মাটি সরে গেছে। মাটির রাস্তাগুলো পানিতে গলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এখন বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এইসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার কিংবা মেরামতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলায় উপজেলায় যেসব রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার অধিকাংশই এলজিইডির নিয়ন্ত্রণাধীন। সড়ক ও জনপথ বিভাগেরও বেশ কিছু রাস্তা রয়েছে। উভয় সরকারি দপ্তরই জানে সড়কের কোথায় কী ক্ষতি হয়েছে। তারা যদি ক্ষতির পরিমাণ কম থাকতেই সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে কম টাকায় রাস্তা-ঘাটগুলো সংস্কার করা সম্ভব হবে। নতুবা বিধ্বস্থ সড়ক আরও বেশি ভেঙ্গে গিয়ে মেরামত খরচের পরিমাণই বাড়াবে।
জেলার বহু সড়ক বন্যার পূর্ব থেকেই বেহাল অবস্থায় পতিত ছিল। এরকম দীর্ঘমেয়াদী বেহাল সড়কের অন্যতম কয়েকটির মধ্যে সুনামগঞ্জ-আমবাড়ি-দোয়ারাবাজার সড়ক, দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার সড়ক অন্যতম। কয়েক বছর ধরে এই রাস্তা দুইটি যান চলাচলের অনুপযুক্ত হলেও বাধ্য হয়ে এই সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহনকে দুর্ভোগ মেনে নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এরকম সংস্কারবিহীন সড়ক জেলায় আরও অনেক রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের যোগাযোগের জন্য যেহেতু সড়কের বিকল্প আর কোন মাধ্যম গড়ে উঠে নি তাই সড়কপথকে সবসময় রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখতে হবে। এখন প্রয়োজনের খাতিরে মানুষ রাস্তায় সময় ক্ষেপণ করাকে অপচয় মনে করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অবিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়কপথগুলো বছরব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণের জায়গায় প্রচুর ঘাটতি বিদ্যমান। জনভোগান্তি লাঘবে সড়ক সংস্কারে তাই সরকারকে আরও অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামতের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেক বেশি উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে। কোথায় কোথায় সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন সেগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করে এগুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতাভূক্ত করতে হবে। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কটি বন্যার পানিতে স্থানে স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এই রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ বলছেন। তাদের অভিমত এখনই সংস্কার করে ফেললে বেশি টাকা খরচ করতে হবে না। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর থেকে তাহিরপুর পর্যন্ত সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই রাস্তার বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করেন। এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর পণ্যাদি পরিবহন করা হয়ে থাকে। সুতরাং গুরুত্বের নিরিখে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের পরিকল্পনাভূক্ত হওয়া প্রয়োজন।
আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট দপ্তর জনগণের চলাচলের স্বার্থে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।