আকরাম উদ্দিন
তৃতীয় দফা বন্যায়ও বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। প্রথম দফা বন্যা থেকেই পানির প্রবল বেগে হাওর ও নদীরপাড়ের বসতির ঘর-বাড়ি ভেঙে বিলীন হয়েছে। গত দুইদিনের ভারী বর্ষণে আবারও ঘর-বাড়ি, গাছ-পালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বার বার ফিরে আসা বন্যায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। শহরতলীর গ্রাম ইব্রাহীমপুরের মানুষ সুরমা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে যেমন ঘর-বাড়ি হারাচ্ছেন, তেমনই দেওলা বিলের পানিতে ডুবেছে দিনমজুর শ্রেণী মানুষের অনেক ঘর-বাড়ি। এই গ্রামের উত্তরে সিলুয়া বিলের পানিতেও দৈনন্দিন খেটে-খাওয়া মানুষের অনেক কাঁচা ঘর-বাড়ি ডুবেছে।
বন্যায় সুরমা নদীর প্রবল ¯্রােতে পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা গাজী রহমান, ফারুক মিয়া, জগলুল মিয়াসহ আরও অনেকের বাড়ি-ঘর ভাঙনের কবলে পড়েছে। গাজী রহমান জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছি। এবার একাধিকবার বন্যায় আবারও বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। আমার পাশের বাড়ি ফারুক মিয়ার ঘর ও বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বার আমাদের বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। ঘরের অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। ২০-২৫দিন ধরে ঘরের ভেতরে প্রায় দেড় ফুট পানি রয়েছে। মাঝে মধ্যে পানি সামান্য কমে আবার বাড়ে। এভাবে গ্রামের অনেক মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মুক্তার আলী ও জিয়াউর জানান, বাড়ি-ঘরে পানি, চলাচল সড়কে পানি। এমনকি গ্রামের মসজিদেও দুইবার পানি উঠেছে। এ বছরের বন্যায় পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাটের বেশি ক্ষতি হয়েছে। শরীফ উদ্দিন জানান, প্রথম বন্যায় পানি ছিল ঘরের ভেতরে ২ ফুট। বারান্দা থেকে নামতে না নামতেই ২য় বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করেছে। এখন ৩য় দফা বন্যার পানি ঘরে আছে। পানি বন্দী আছি পরিবারের সবাইকে নিয়ে।
একইভাবে জগন্নাথপুর গ্রামের অসংখ্য পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই গ্রামের মানুষ প্রায় সবাই দিনমজুর শ্রেণীর। গ্রামের মানুষের অসংখ্য কাঁচা ঘর রয়েছে। যারা পানির জন্য ঘরে থাকতে পারছেন না, তারা জগন্নাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা নিথিশ বর্মন জানান, এবার ভয়াবহ বন্যায় পিছু ছাড়ছে না। মানুষ এমনিতেই করোনায় ঘরবন্দি। এখন বন্যায় ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে বন্দি। মানুষের রোজগার নেই। দৈনন্দিন খাবার সংগ্রহ নিয়ে খুবই সংকটে।
এই গ্রামের বাসিন্দা সানন্দ বর্মন জানান, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ মাছ ধরে পরিবারের খরচ যোগায়। এখন ভাসান পানিতে মাছ ধরা সম্ভব নয়। দৈনন্দিন পরিবারের খাবার নিয়ে মারাত্মক সমস্যায় গ্রামের প্রায় সকল মানুষ।
নদীরপাড়ের গ্রাম মইনপুরও এই বন্যায় নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। মইনপুর গ্রামের এরন মিয়া জানান, ভয়াবহ বন্যায় আমার ৭০ মন ধান পঁচে গেছে। ঘরের ভেতরে হাঁটু পানি। আসবাবপত্র নষ্ট। নদীরপাড়ের ঘর-বাড়ি বন্যার পানির প্রবল ¯্রােতে বিলীন হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামের উত্তর দিকে গুচ্ছগ্রামের প্রায় ৫০ পরিবার পানিবন্দী।
মইনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জানান, আমার ঘরে পানি। নিজেই পানিবন্দী। গ্রামের অনেক মানুষ পানি বন্দী রয়েছে। পাশের গ্রাম হালুয়ারগাঁয়ের অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ফারুক মিয়া জানান, ঘর-বাড়িতে পানি থাকায় মানুষ রোজগার করতে পারছেন না। জীবীকা নিয়ে অনেক সমস্যায় আছেন। বন্যার পানি ঘরে ঢুকায় আসবাবপত্র নষ্ট, রান্না করা, ভেজা কাপড় শুকানো ইত্যাদি নানা সমস্যায় পড়েছেন মানুষজন।
রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, গ্রামের প্রত্যেকের ঘরে পানি। কেউ বের হতে পারছে না। খাবার নিয়ে মারাত্মক সংকটে মানুষ। এই বন্যায় অনেক মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন কেউ ঋণও দিচ্ছে না।