- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পানিবন্দি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ

পুলক রাজ
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে সুরমা নদীর পাড়ের এলাকাসমূহ এবং হাওরের পানি উপচে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানি। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন অনেক এলাকার মানুষ। অনেকের বাসাবাড়ীর ভেতরেও পানি ঢুকেছে। বেশী বিপদে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষজন। একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যার পানিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। রবিবার সরজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের আরপিননগর, পশ্চিমবাজার, মধ্যবাজার, তেঘরিয়া, রিভারভিউ, নতুনপাড়া, বাঁধন পাড়া, শান্তিবাগ, হাছননগর, শহিদ আবুল হোসেন রোড, কালীবাড়ি, কাজির পয়েন্ট, উকিল পাড়া, ওয়াপদা, নবীনগর, ওয়েজখালীর মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। দুপুর ২ টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।
রিকশা চালক সুমন বর্মন বলেন, রোদেলা ম্যানশনে আমি থাকি। ৯টি পরিবার এই কলনিত থাকে সবার ঘরে কমর পানি হয়ে গেছে। আমরা মহা বিপদে আছি, কই যাবো বুঝতে পারছি না। এর মধ্যে কাজে যেতে পাড়ছি না কেমন করে বাঁচবো, পরিবার বাঁচাবো তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
পশ্চিম বাজার ওমরগনী কলনি বাসিন্দা চানাচুর বিক্রেতা নূর আলম বলেন, না খাইয়া থাকতে হইবো মনে হচ্ছে যে ভাবে পানি বাড়ছে। ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হোক আমাদের।
নতুনপাড়া বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বাপ্পি বলেন, খুব ভয় হচ্ছে একদিকে করোনা ভাইরাস অন্যদিকে বন্যা। ঘরে প্রবেশের পথে পানি। জান বাঁচাবো না জিনিসপত্র বাঁচাবো সেটা বুঝতে পাড়ছি না। পানির সাথে আসছে কেচো, জোঁক, পিপড়া, পোকা মাকড়। খুব ভয় লাগছে।
রিপন চন্দ বলেন, পাহাড়ী ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে বন্যার কবলে সুনামগঞ্জ। হঠাৎ করেই পানি বাড়তে থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অনেকেরই দোকান কোঠায় পানি ঢুকে মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেভাবে অবিরামভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে শঙ্কা বাড়ছেই।
শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা অঞ্জন চৌধুরী বলেন, রবিবার সকালে আমার ঘরে পানি ঢুকেছে। যত সময় যাচ্ছে পানি বাড়ছে। কি করবো, কি জানি। মহা বিপদের মধ্যে আছি।

  • [১]