আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে গত বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক, কালভার্ট, সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় অন্তত ২২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে দুই কিলোমিটার, তাহিরপুর উপজেলার নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কে ছয় কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে সাড়ে তিন কিলোমিটার, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে দুই কিলোমিটার, পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কে দুই কিলোমিটার, মদনপুর-দিরাই-শাল্লা সড়কে দুই কিলোমিটার এবং জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে এক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বন্যায় সুনামগঞ্জ-মঙ্গলকাটা এবং মঙ্গলকাটা-নারায়নতলা সড়কের দুটি বক্স কালভার্ট ও সড়ক ভেঙে গেছে, বিশ্বম্ভরপুর- আনোয়ারপুর সড়কের দুটি বক্স কালভার্ট, দিরাই উপজেলার বোয়ালিয়া-মারকুলি সড়কে একটি কালভার্ট, ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কে একটি সেতুর সংযোগ সড়ক, তাহিরপুর
উপজেলার তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক ও সড়কের কয়েকটি সেতুর সংযোগ সড়ক, দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা রাবার বাধের উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল বরকত জানান, তাঁর ইউনিয়নের ধারারগাঁও পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে সড়কের একটি কালভার্টসহ বেশ কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় মানুষজন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভাঙা সড়কে এলাকাবাসী কিছু মাটি ও বস্তা ফেলে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও কোনো যানবাহান চলাচল করতে পারছে না।
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ জানান, বন্যায় সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আধঘন্টার পথ যেতে এখন সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘন্টা।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, উপজেলার ব্যবসার কেন্দ্র হচ্ছে বাদাঘাট এলাকা। কিন্তু গত বন্যায় তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক ও সড়কের কয়েকটি সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। এতে এই সড়ক দিয়ে লোকজনকে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক মেরামতের জন্য বারবার বলার পরও কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ এখনো পাইনি। বরাদ্দ আসলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কাজ হবে।’ তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য চার কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ বলেছেন,‘আমরা চার কোটি টাকা চেয়েছিলাম। এখনো টাকা পাইনি। তবে প্রতি বছরের নিয়মিত বরাদ্দের একটা অংশ আমরা পেয়েছি। সেই টাকা থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট মেরামতের কিছু কাজ করব।’